fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আড়াই বছরের ঐত্রীর হাসপাতালের গাফিলতিতেই মৃত্যু, ১০ লক্ষ টাকা আমরি-কে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ স্বাস্থ্য কমিশনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আড়াই বছর আগে মুকুন্দপুরের আমরি হাসপাতালে আড়াই বছরের ঐত্রী দে-র মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। প্রশিক্ষণ নার্সের ইনজেকশনের ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল একরত্তির পরিবার। কিন্তু তা মানতে চায়নি হাসপাতাল। এমনকি ঘটনার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনেই ঐত্রীর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল আমরির ইউনিট হেড জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে সুবিচারের আশায় স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয় ঐত্রীর পরিবার।

অবশেষে আড়াই বছর পর সমস্ত দিক রায় দিল স্বাস্থ্য কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে জানানো হল, ঐত্রীর চিকিৎসায় হাসপাতালের গাফিলতি ছিল, এ কথা প্রমাণিত হয়েছে। ঐত্রীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমরিকে। জানানো হয়েছে, দু’দিনের মধ্যে ই-মেল মারফত সব পক্ষকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে রায়ের কপিও।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি সকালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ঐত্রী। ১৭ জানুয়ারি সকালে মারা যায় সে। হাসপাতাল জানায়, হার্টের অসুখ ছিল শিশুটির। কিন্তু তার মা শম্পা দত্ত প্রথম থেকেই অভিযোগ তোলেন, ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণে মারা গেছে ঐত্রী।

পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও স্পষ্ট হয় মৃত্যুর কারণ। জানা যায়, ছোট্ট ঐত্রীর হার্টের কোনও অসুখ ছিলই না। অ্যালার্জি টেস্ট না করে অগমেন্টিনের ইন্ট্রাভেনাস ডোজই মৃত্যু ডেকে আনে। প্রবল শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয় আড়াই বছরের ঐত্রীর। শিশুটির দুই ফুসফুস এবং হার্টে বিভিন্ন আকারের একাধিক হেমারেজের ছাপ মেলার কথাও উল্লেখ ছিল পোস্টমর্টেম রিপোর্টে। আগে খাইয়ে না দেখে নেওয়ার ফলে ওষুধ প্রয়োগে অ্যালার্জিতে একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয় ঐত্রীর।

তদন্তে জানা যায়, শ্রুতি প্রজ্ঞা প্রিয়দর্শিনী নামের এক নার্স, যিনি ভুল ওষুধ দেওয়ায় অভিযুক্ত ছিলেন, তিনি নিজে মুখেই স্বীকার করেন যে, তাঁর কোনও নার্সিং সার্টিফিকেট নেই। পরীক্ষা দেওয়ার পরেই তিনি আমরিতে কাজে যোগ দেন। ভিডিও কনফারেন্সে সব পক্ষের বক্তব্য শোনে কমিশন। এর পরেই এ দিন রায় ঘোষণা হয়।

Related Articles

Back to top button
Close