fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ত্রাণ দিলেন, গড়লেন করোনা-তহবিল, বেনজির উদ্যোগ মোহাড় ব্রহ্মময়ী স্কুলের শিক্ষকদের

শান্তনু অধিকারী, সবং: হাত গুটিয়ে বসে রইলেন না শিক্ষকসমাজও। নজিরবিহীন সংকটে নিলেন বেনজির উদ্যোগ। শুধু দুঃস্থ, দুর্গতদের ত্রাণই দিলেন না, আগামীদিনে এই পাশে থাকার কাজটি চালিয়ে যেতে গড়লেন করোনা তহবিল। ইতিমধ্যে মোহাড় ব্রহ্মময়ী স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীদের মধ্যে।

গত পয়লা মে থেকে শুরু হয়েছে মোহাড় ব্রহ্মময়ী স্কুলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ। এখনও পর্যন্ত এলাকার প্রায় চারশো দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ত্রাণ। দেওয়া হয়েছে, আলু, ডাল, সরিষাতেল, মুড়ি-সহ এগারোটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সহযোগিতাতেই তৈরি হয়েছে এলাকাভিত্তিক দুর্গতদের তালিকা। প্রধানশিক্ষক সুদীপকুমার শাসমল জানালেন, ‘ওই তালিকা ধরেই চলছে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ। আগামীদিনেও চলবে।’

বিদ্যালয়ের দেওয়া ত্রাণসামগ্রী নিতে এসেছিলেন ১৩নং অঞ্চলের মুরারীচকের কাঞ্চনী মাকড়। স্বামী গত হয়েছেন আগেই। জমিজমারও বালাই নেই। পরিচারিকার কাজ করে কোনওমতে দু’বেলা আহারের জোগাড়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই রোজগারটিও হারিয়ে ছ’বছরের মেয়েকে নিয়ে পড়েছিলেন রীতিমতো আতান্তরে। অসহায়ভাবে শোনাচ্ছিলেন তাঁর করুণ কাহিনি। বললেন, ‘ছোট্ট মেয়েটার মুখেও অনেক দিন খাবার তুলে দিতে পারিনি।’ স্বভাবতই, স্কুলশিক্ষকদের থেকে এমন সহযোগিতা পেয়ে নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি কাঞ্চনীদেবী। একই রকম অনুভূতির প্রকাশ ত্রাণ নিতে আসা রায়চকের স্বামীহারা ষাটোর্ধ্বা গোরী সাঁতরা কিংবা মোহাড়ের স্বামী পরিত্যক্তা মুসলিমা বিবিদের গলাতেও।

আরও পড়ুন: পুজোর বাজেট কমিয়ে দুঃস্থদের দান চাঁদমারী মহিলা পুজো কমিটির

লকডাউনের জেরে রোজগার হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে দিন আনা দিন খাওয়া প্রান্তিক মানুষজনের অবস্থা হয়েছে বেগতিক। পরিস্থিতির শিকার হওয়া এইসকল মানুষজনের পাশে থাকতেই এমন উদ্যোগ বলে জানালেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক। তাঁর এই ভাবনা সফল করতে যেভাবে সহকর্মীরা এগিয়ে এসেছেন, তাতে রীতিমতো আপ্লুত তিনি। বললেন, ‘এতটা সাড়া পাব ভাবিনি। সকলের ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়েই গড়েছি করোনা তহবিল। যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, ততদিনই আমরা চেষ্টা করব সাধ্যমতো দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে।’ একইসঙ্গে এই উদ্যোগটিকে সুসম্পন্ন করতে বিদ্যালয়ের সভাপতি-সহ স্থানীয় প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানালেন সুদীপবাবু।

মোহাড় স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ত্রাণ বিলিয়ে কেবল মানববান্ধবই হয়ে ওঠেননি। হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন পরিবেশবান্ধবও। সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা সচেতনভাবেই প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করেননি। ব্যবহার করেছেন স্বাস্থ্যবিধি লেখা রয়েছে এমন পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। বিদ্যালয়েরই সহ-শিক্ষক গৌতম দিত্য বললেন মোক্ষম কথাটি, ‘এই সময় মানুষ ও প্রকৃতি, দুটোকেই রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।’ মোহাড় ব্রহ্মময়ী স্কুলের শিক্ষকশিক্ষিকারা তাই শুধু নিজেরাই কর্তব্য পালন করলেন না। উদাসীন সমাজের জন্য রেখে গেলেন কর্তব্যের পাঠও!

Related Articles

Back to top button
Close