fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দলের কাজে গিয়ে জখম হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী দলীয় কর্মী, খোঁজ নেয় না তৃণমূলের কোনও কর্মী

মিল্টন পাল, মালদা: সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর পাশে নেই তৃণমূল কর্মী থেকে নেতা ব্যক্তিত্বরা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অতীন ঘোষের জনসভায় যোগ দিয়ে ফেরার পথে আহত হন এক মহিলা তৃণমূল কর্মী। ঘটনায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় কাটা পড়ে তার ডান পা। এখনও অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়িতে পড়ে রয়েছেন। অথচ তার চিকিৎসার জন্য একবারের জন্যও তৃণমূলের কোনও নেতৃত্ব তার সঙ্গে দেখা করেননি। আর যার ফলে সুষ্ঠু চিকিৎসা না পেয়ে মূলত বাড়িতেই অসহায় ভাবে পরে রয়েছেন ওই মহিলা। পরিবারে স্বামী ও তার এক ছেলে বিভিন্ন জায়গায় ধার দেনা করে চিকিৎসা করলেও বর্তমানে ওই ধারের টাকা এখনও শোধ করতে পারছেন না। তারা ফলে এক দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন তারা।

মালদার গাজলের রসিকপুরের বাসিন্দা নন্দরানী বিশ্বাস। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি ও তার স্বামী নিরঞ্জন বিশ্বাস তৃণমূল করেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের কয়েকদিন আগে গাজোল এলাকায় তৃণমূল নেতা অতীন ঘোষের সভায় যোগদান করেছিলেন তারা। ফেরার পথেই ভুটভুটি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে নন্দরানী বিশ্বাসের একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেই সময় ভর্তি করা হয়। এরপর অস্ত্রোপচারের ফলে তার পা কাটা যায়। এরপর থেকে তার ওই অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসা করতে হবে। কিন্তু সেই টাকাও নেই। ধার দেনা করে প্রথমে মায়ের চিকিৎসা করায় একমাত্র ছেলে।

বর্তমান আর কোথাও থেকে কোন সাহায্য পাচ্ছে না। ফলে অসুবিধায় পড়েছে সে। এতদিন ধরে একমাত্র মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল ছাড়া কেউ তাদের কোনও খোঁজ নেয়নি। গৌড় চন্দ্র মন্ডল এককালীন কিছু টাকা সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু কোনও স্থানীয় নেতৃত্ব খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। তার চিকিৎসার সমস্ত খরচ ও তার ছেলের একটি চাকুরির ব্যবস্থা করা হবে বলে সেই সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। চরম অসহায় ভাবে আছে ওই পরিবার। দলকে ভালোবেসে কর্মিসভায় যোগ দিয়েছিলেন ঘটেছিল দুর্ঘটনা। দল এখন তাদের কোনও খোঁজ নেয় না। এটাই কি অপরাধ ছিল তাদের প্রশ্ন তাদের কাছে। নন্দরানী বিশ্বাস বলেন, দল তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন বুঝতে পারছি কি ভুল করেছিলাম তৃণমূল করে।

মায়ের চিকিৎসার জন্য সামান্য কিছু সাহায্য ছাড়া আর কিছু মেলেনি কিন্তু এই চিকিৎসা করাতে বারবার কলকাতা যেতে হয়েছে। সে কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে দেনা করতে হয়েছে নন্দরানী বিশ্বাসের ছেলে গোপাল বিশ্বাসকে। তাকে চাকরি দেওয়া যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা এখনও রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন:দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলিকে দেওয়া অনুদান নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, কর্মীদের নিয়ে তৃণমূল সংগঠন তৈরি করেছিল। আর এখন ওই তৃণমূল কর্মীদের ভুলে গিয়েছে তৃণমূল দল। এটাই তৃণমূলের কালচার। এরা মানুষের পাশে দাঁড়াই না মানুষের হয়ে কাজ করে না। একজন মানুষ হিসেবে আমরা সর্বদা ওই মহিলার পাশে রয়েছি। আমরা দলীয়ভাবে সাংগঠনিকভাবে তাদেরকে সাহায্য করব।

যদিও মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল বলেন, অন্যকে কি করেছে জানি না। আমি ওই পরিবারটিকে এককালীন কিছু সাহায্য করেছি এবং দুর্গাপুজো শেষ হলে ওই ছেলেটির চাকুরির ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই সরকারি স্তরে আলোচনা হয়ে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close