fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কী কান্ড ! রাজ আমলের রৌপ্য মুদ্রার পর এবার নদীতে মিলছে সোনার অলংকার!

বিজয় চন্দ্র বর্মন, জামালদহ: শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা কিন্তু একেবারে সত্যি। গত শুক্রবার কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহের সুটুঙ্গা নদী থেকে মিলেছে বেশ কিছু রৌপ্য মুদ্রা। স্থানীয়দের মধ্যে যারা নদী থেকে বালি পাথর তোলে তারাই প্রথম এগুলি পায়। ঠিক কতগুলি পাওয়া গিয়েছে তা কেউ জানাতে রাজি না হলেও পুলিশ ভয় দেখিয়ে ২৫ টি রূপার কয়েন উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া মুদ্রা গুলি রূপোর এবং রাজ আমলের নারায়নী মুদ্রা। যে মুদ্রা গুলির ওপর কোচবিহারের প্রাচীন ভাষার হরফে অনেক কিছু লেখা রয়েছে।

মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা জানান, কোচবিহারের ষষ্ঠ মহারাজ প্রান নারায়নের সময়কালের মুদ্রা এগুলি। যার রাজত্ব কাল ১৬২৬ থেকে ১৬৬৫ সাল পর্যন্ত। সে সূত্র ধরে বলা যায় মুদ্রা গুলির আনুমানিক বয়স
চারশো বছর। মেখলিগঞ্জের যে নদী থেকে এগুলি উদ্ধার হয়েছে সে স্থানটিও তার রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তার রাজত্ব সীমার মধ্যে সে আমলের কিছু ধন রত্ন গুপ্তধন হিসাবে রয়েই গিয়েছে বলে অনেকের ধারনা। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া রৌপ্য মুদ্রাগুলি তার সাক্ষ্য বহন করছে। সেদিনের পর থেকেই এলাকার বাসিন্দারা সেই নদীতে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবারের পরেও দু – চারটি রৌপ্য মুদ্রা মিলেছে। তবে আশ্চর্যজনক ভাবে রবিবার দিন সেখানে কেউ কেউ সোনার আংটি সহ নানান স্বর্ণ অলংকার মিলেছে। আর সে খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ফের নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কোথা থেকে এলো এসব মূল্যবান অলংকার ও মুদ্রা ? স্থানীয় বয়স্ক নাগরিক দের কথায়, যে স্থান থেকে মুদ্রা ও অলংকার গুলি উদ্ধার হয়েছে তার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রয়েছে জামালদহের গভীর বনাঞ্চল। যেখানে আগে ছিল ভয়ংকর ডাকাতদের আখড়া। যে আখড়ায় বসে থাকতো ডাকাত সর্দার। অন্যান্য ডাকাতরা ডাকাতি করে আনা ধনরত্ন সর্দারের হাতে জমা দিত। হয়তো ডাকাতদের মধ্যে একটি দল এ অংশে বালির মধ্যে বাস্ক বন্দি অলংকার ও মুদ্রা গুলি লুকিয়ে রাখেন।হয়তো পরে তারা আর খুঁজে পাননি।কালক্রমে সেখানে নদী অবস্থান করলে সেগুলি সেখানেই চাপা পড়ে থাকে।

এরকমই একজন ডাকাত সর্দারের বাস ছিল জামালদহের এই বনাঞ্চলে। নাম জংলিয়া। যদিও একদিন হঠাৎ জংলিয়া সর্দারের মৃতদেহ সেই জঙ্গলেই পড়ে থাকতে দেখা যায়। কে বা কারা তাকে খুন করে সেখানে ফেলে দিয়েছিল। এই জংলিয়ার আগেও নিশ্চয় কোনও না কোনও ডাকাত সর্দারের মুক্তাঞ্চল ছিল এই বনাঞ্চল। সুতরাং বলার অপেক্ষা থাকে না যে এই অংশে ডাকাতরা তাদের রাজ চালিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে মতের অমিলে নিজেদের মধ্যে খুনা খুনিও করতো। হয়তো নদীর এই অংশে আগে জঙ্গল বা বাঁশবন ছিল। সময়ের অস্তাচলে নদী তার গতি বদল করেছে। এছাড়া এই এলাকায় অনেক ধনশালী ব্যক্তির অবস্থান ছিল। ডাকাতির ঘটনা ঘটতো প্রায়ই। ডাকাতদের ভয়ে এলাকার ধনী ব্যাক্তিরা ভয়ে তটস্থ ছিল। হয়তো এলাকার কোনও ধনশালী ব্যাক্তিও ডাকাতের ভয়ে এই অংশে ধন সম্পদ লুকিয়ে রেখেছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন পূর্বে নদীর এই অংশে হয়তো বসত বাড়ি ছিল। বন্যার তোড়ে ঘর বাড়ি ভেসে গিয়েছিল কিংবা ভূমিকম্পে সে বাড়ি ধ্বংস স্তূপে পরিনত হয়েছিল। সেই ধ্বংস স্তূপের নীচেই চাপা পড়ে যায় এইসব ধনরত্ন।

Related Articles

Back to top button
Close