fbpx
দেশহেডলাইন

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! সরকারি চাকরিতে বড় বদল, নয়া নীতি ঘোষণা কেন্দ্রের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বড়সড় সংস্কার করল মোদি সরকার। সাধারণ প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জাতীয় নিয়োগ সংস্থা  তৈরিতে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয়মন্ত্রক। যে সকল যুবকরা চাকরি খুঁজছেন তাঁদের জন্য লাভজনক হতে চলেছে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত। বুধবার এমন ঘোষাণা করেছেন প্রকাশ জাভড়েকর। বুধবার ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি (এনআরএ) গঠনে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। ভারত সরকারের যাবতীয় গ্রুপ বি এবং সি (নন টেকনিকাল) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি নেবে এনআরএ। এই পরীক্ষার নাম হবে কমন এলিজিবিটি টেস্ট (সিইটি) শুরু হবে।

ব্যাংক, রেল বা স্টাফ সিলেকশনের নিয়োগের জন্য এবার থেকে আর আলাদা আলাদা পরীক্ষা দিতে হবে না। চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মোদি মন্ত্রিসভা। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত নন-গেজেটেড পোস্টে নিয়োগের জন্য একটি অভিন্ন এজেন্সি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই এজেন্সির মাধ্যমে সব নন-গেজেটেড পোস্টের চাকরির জন্য একটিই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আলাদা আলাদা বিভাগে চাকরির জন্য আবেদন করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি কোটি কোটি কর্মপ্রার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিতে সক্ষম হবে। এই সাধারণ যোগ্যতা পরীক্ষার মাধ্যমেই চাকরির সংস্থান আরও সহজ হবে। স্বচ্ছ থাকবে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া।’

সিইটি পরীক্ষা হবে তিনটি পর্যায়ে। স্নাতক মানের, উচ্চমাধ্যমিক মানের এবং মাধ্যমিক মানের উপর ভিত্তি করে। তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, ‘এখন যুব প্রজন্মকে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সরকারের প্রায় ২০টি নিয়োগ সংস্থা রয়েছে। যদি কেউ চার বা পাঁচটি পদের জন্য অংশ নিতে হয় (বিভিন্ন কাজের জন্য) তবে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই লক্ষ্যে এই এনআরএ গঠন ঐতিহাসিক।’

আরও পড়ুন: বিগত ১০ বছরে বায়ুসেনার চাকরি ছেড়েছেন ৭৯৮ জন পাইলট! রিপোর্ট

সমস্ত নন-গেজেটেড পদে নিয়োগের জন্য তৈরি হল অভিন্ন নিয়োগ বোর্ড। যার নাম দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি । এই এজেন্সির মাধ্যমে অনলাইনে নেওয়া হবে কমন এলিজিবিলিটি টেস্ট। অনলাইন পরীক্ষায় পাশ করলেই আবেদন করা যাবে ব্যাংক, রেল-সহ অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, এই কমন এলিজিবিলিটি টেস্টের  মেরিট লিস্টের মেয়াদ হবে তিন বছর। অর্থাত্‍ একবার পরীক্ষায় পাশ করলে পরবর্তী তিন বছর বিভিন্ন পোস্টের চাকরির জন্য আবেদন করা যাবে। এর জন্য আলাদা আলাদা করে আর পরীক্ষা দিতে হবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় বাজেটের সময়ই এই ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর সেই বাজেট প্রস্তাবে বুধবার ছাড়পত্র দিল মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, আগামী বছর থেকেই এই অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, স্বাধীন ভারতের ইতহাসে এটি অন্যতম বড় সংস্কার। সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পরীক্ষার্থীরা এতে উপকৃত হবেন।

সিং আরও জানান, ‘সিইটি পরীক্ষা মোট ১২টি ভাষায় হবে। এনআরএ-এর শীর্ষে থাকবেন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বা সমতূল্য পদমর্যাদার কোনও আমলা। এছাড়াও অবশ্যই থাকবেন এসএসসি, আরআরবি, আইবিপিএস-এর মতো প্রতিনিধিরা। আগামী তিন বছর এনআরএ-এর কাজকর্মের জন্য ১৫৫৭.৫৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। কর্মীবর্গ এবং প্রশিক্ষক সি চমদ্রমৌলি জানান প্রতি বছর গড়ে আড়াই থেকে তিন কোটি কর্মপ্রার্থী গ্রুপ ডি-সি এর ১.২৫ লক্ষ পদের জন্য আবেদন করেন। ৫০টির বেশি নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজিত হয় প্রতি বছর। সিইটি চালু হয়ে গেলে এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আবেদনকারীরা সুবিধা পাবেন।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close