fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

এবার মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর থেকে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত হবে পণ্য পরিবহন

পদ্মা নদী দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের নৌ বাণিজ্যের উদ্যোগ

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: পদ্মা নদী দিয়ে নৌপথে বাণিজ্য চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর থেকে বাংলাদেশের রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ নৌ বন্দর পর্যন্ত পণ্য পরিবহন হবে। এ পথে এক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক পণ্য আনা-নেওয়া করার পরিকল্পনা করছে ঢাকা ও দিল্লি।

এই নৌ পথ চালু করতে রাজশাহীর পদ্মার তীরে এক মাসের মধ্যে নৌ বন্দর চালু করবে হাসিনা সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বি আইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সম্প্রতি পদ্মার তীরে সুলতানগঞ্জে নৌবন্দরের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্পিডবোটে করে পদ্মা নদীর ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পরিদর্শন করার পর স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক ও জন-প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।

কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, ‘পদ্মায় নৌপথ চালু করলে দুই দেশই উপকৃত হবে। আমরা নদীর নাব্যতাসহ সবকিছু দেখে গেলাম। খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ নৌপথ চালু করতে চাই।’ স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এক সময় গোদাগাড়ী দিয়ে ভারতের সাথে পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। সেটা অনেক আগে বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার সেটি চালু হলে খুব ভালো হবে। আগে এ পথে পাটজাত পণ্য ভারতে যেত। আবারও সেসব পণ্য পাঠানো যাবে।

এছাড়া, রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর মাছ উৎপাদন হচ্ছে। সেই মাছও ভারতে রপ্তানি করা যাবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হবে। তাই আমরা চাই দ্রুতই যেন নৌবন্দরটি চালু হয়।’ বি আইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর এ নৌপথে বাণিজ্য চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এ পথে এক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক চালান পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।

বি আইডব্লিউটিএ আধিকারিকরা এখন নৌপথটির পরিকাঠামো পর্যালোচনা করছেন। সংস্থার আধিকারিকরা বলছেন, নৌপথটি চালু হলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য যোগাযোগ আরও সহজ হবে। কেননা নৌপথে একসাথে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা যায়।

বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটারের একটি নৌপথের অনুমোদন থাকলেও তা কার্যকর নেই। এখন নতুন পথটি সংক্ষিপ্ত করে সুলতানগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছে বি আইডব্লিউটিএ। এ পথের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এতে অনেকটা আড়াআড়িভাবে পদ্মা নদী পাড়ি দেবে পণ্যবাহী নৌযান। শুষ্ক মৌসুমে এ নৌপথে প্রতি যানে ২০০-৩০০ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। আর বর্ষা মৌসুমে নাব্যতা বেশি থাকলেও প্রমত্তা পদ্মায় স্রোতও অধিক থাকে। তাই তখন অবশ্য পণ্য পরিবহন কিছুটা কঠিন হবে।

ইতিমধ্যে রাজশাহী এলাকায় একটি শুল্ক কার্যালয় চালুর জন্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবি আর) অনুরোধ করেছে বি আইডব্লিউটিএ। সূত্রের খবর, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্পে মুর্শিদাবাদের ‘পাকুর পাথর’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি বেশ উন্নতমানের পাথর। এখন সড়কপথে এ পাথর আমদানি করতে খরচ বেশি পড়ছে। গোদাগাড়ী-মায়া নৌপথটি মূলত পাকুর পাথর আমদানিতে বেশি ব্যবহার হবে।

Related Articles

Back to top button
Close