fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

বেতন বৃদ্ধির দাবি করায় জর্ডানে শিক্ষকদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, গ্রেফতার ১০০০

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: স্কুল শিক্ষকেরা সরকারের কাছে বেতন বৃদ্ধির দাবি করায় তাদের উপর নেমে এসেছে আতঙ্কের ছায়া। জানা যাচ্ছে, গত বছর অক্টোবরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামেন জর্ডানের বৃহত্তম শিক্ষক সংগঠন। এরপর থেকেই শিক্ষকদের এই ট্রেড ইউনিয়নের ওপর নেমে এসেছে সরকারের দমন-পীড়ন। ইউনিয়ানের তরফে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

একইসঙ্গে ইউনিয়নের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শুধু সাধারণ শিক্ষকদের গ্ৰেফতার নয়, গোপন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ইউনিয়নের ১৩ জন নির্বাচিত সদস্যকেই। একইসঙ্গে, গত মাসে হঠাৎ করেই দেশজুড়ে থাকা ইউনিয়নের সব শাখা ‘সিল’ করে দিয়েছে পুলিশ। দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউনিয়নের সকল ধরনের কার্যক্রম। এরপরে, আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষকদের আটকাতে ব্যবহার করা হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে পাস করা করোনা নিয়ন্ত্রণ আইন। ইউনিয়নের সদস্য ও আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতারের খবর প্রচার না করতে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জর্ডানের গণমাধ্যমগুলিকেও। তবে, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে শিক্ষকদের উপর এই দমন-পীড়নের খবর প্রচারিত হওয়ার পর বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারী করোনাতে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, শিক্ষক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এই অভিযানের কৌশল পরিবর্তিত হয়ে আরও দমনমূলক হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু, জর্ডান সরকার দাবি, ‘শিক্ষক সংগঠন বন্ধ করে দেয়া এবং সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি, নিয়েছে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ।’ অর্থাৎ এক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। ঘটনা প্রসঙ্গে সরকারের মুখপাত্র আমজাদ অ্যাদেলা বলেন, ‘সব আদেশ জারি করেছেন প্রসিকিউটর জেনারেল, যারা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকেন।’

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের দাবি, ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এই অভিযান আসলে আরব সম্রাজ্য এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের মধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক লড়াইয়ের অংশ। তাই, শিক্ষক ইউনিয়নকে বন্ধ করে দেওয়ার এক সপ্তাহ আগেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল জর্ডান। এ প্রসঙ্গে, আম্মানের কূটনীতিকদের দাবি, শিক্ষক ইউনিয়নের সঙ্গে অবশ্যই মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগসূত্র রয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি সহ অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্যই ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close