fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে বিধায়ক পরেশ পাল ও সাধন পান্ডের ডুয়েল অজানা নয়। নির্বাচনের আগে বারবার প্রকাশ্যে আসছে ঘাসফুল শিবিরের অন্তর্নিহিত কোন্দল। শুক্রবার সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে এল দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে ঘিরে। মন্ত্রী সাধন পান্ডের সঙ্গে পরেশ পাল অনুগামী কর্ডিনেটর অমল চক্রবর্তীর কর্মসূচির পদ্ধতির রূপায়ন নিয়ে বচসা হয়। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কর্ডিনেটরের নথি ছিঁড়ে দেওয়ার আভিযোগ। এর আগেও বেশ কয়েকবার সাধন-পরেশ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে বিভিন্ন ইস্যুতে। কিন্তু এবার সরকারি প্রকল্পকে ঘিরে বুষ্টি কন্ট্রোল সামনে এলো।

এদিন সকাল থেকেই উল্টোডাঙায় পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাদারটেরেজা কমিউনিটি হলে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি চলছিল। লম্বা মানুষের ভীড়। বেলা দেড়টা নাগাদ রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে সেখানে আসেন। তারপরেই বিতর্ক দানা বাধে।
মন্ত্রী সাধন পান্ডের অভিযোগ, ‘অমল চক্রবর্তীর দলের লোকেরা অবাধে কমিউনিটি হলের ভেতরে প্রবেশ করছিল। অথচ বাইরে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন ছিল। কিন্তু তাদের দীর্ঘ সময় ধরে একই ভাবে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সুযোগ মিলছিল না।’ সে কারণেই মন্ত্রী নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে এসেছিলন।
যদিও মন্ত্রী সাধন পান্ডের এই তথ্য সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্ডিনেটর অমল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘সকাল দশটা থেকেই দুয়ারে সরকার কর্মসূচি ভালোভাবেই চলছিল। বেলা দেড়টা নাগাদ পর্যবেক্ষণে এসেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পান্ডে। আমি ভেবেছি উনি পর্যবেক্ষণে এসেছেন। পর্যবেক্ষণ করে চলে যাবেন। কিন্তু মন্ত্রী হঠাৎই কথা বলতে বলতে রেজিস্ট্রেশন এর কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সবকিছু উল্টে ফেলে দেন।’ একই সঙ্গে বেশ কিছু নথিও ছিড়ে দেন। বলেও অভিযোগ করেন অমল চক্রবর্তী। তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী বেড়িয়ে যাওয়ার পরেই তাঁর অনুগমিরা এই কান্ড ঘটায়।’
অন্যদিকে পরেশ পালকে আইনি নোটিস পাঠালেন সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া। সম্প্রতি তৃণমূলের দুই বিধায়কের সংঘাত আরও জটিল হয় বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে। সেখানেই একে অন্যকে নজির বিহীন আক্রমণ করেন সাধন পরেশ। পরেশ পাল আচমকাই দু’জন রাজনীতিকের মধ্যে টেনে আনেন সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়ার কথা। অভিনেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডেকে ইডির তলব নিয়ে মন্তব্য করেন। আর তাতেই আপত্তি শ্রেয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার চরিত্রহনন করা হয়েছে।’ সে কারণে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়া। পরেশ পালের তিনটি ঠিকানাতেই এই নোটিস পৌঁছে গিয়েছে৷ নোটিস পাওয়ার পর সাতদিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে তারপরেও ক্ষমা চাননি বেলেঘাটার বিধায়ক। তাই পরেশ পালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শ্রেয়া পাণ্ডের আইনজীবী৷ যদিও এ বিষয়ে এখনও পরেশ পালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷

Related Articles

Back to top button
Close