fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যপাল একজন ‘লাইনজীবী’, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে লাইন করে রাজ্যে টিকে আছেন: জীতেন্দ্র তিওয়ারি

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: রাজ্যপাল জগদীশ ধনকরকে নিয়ে এবার বাকযুদ্ধে আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জীতেন্দ্র তিওয়ারি। রাজ্যের শাসক দল ও কেন্দ্রের শাসক দলের লড়াই নির্বাচনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷
রাজ্যপাল ” আইনজীবী” ঠিকই। কিন্তু তিনি এখন “লাইনজীবি” হয়ে গেছেন। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে লাইন করে তিনি রাজ্যে টিকে আছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসানসোলের উষাগ্রামে অগ্নিকন্যা ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোলের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র মন্তব্যকে কটাক্ষ করে পাল্টা জবাব দিলেন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারি।

বুধবার সন্ধ্যায় আসানসোলে দলের জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাবুল সুপ্রিয় বলেছিলেন, রাজ্যপাল একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি আগে আইনজীবী। পরে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন এই রাজ্যের রাজ্যপালের। তিনি যা বলেন সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখেই বলেন। সংবিধানই তাকে অধিকার দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার। আর সেই সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য। রাজ্য দিনের পর দিন বিজেপি নেতা ও কর্মীরা খুন হচ্ছে। সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তাই রাজ্যপাল রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্য সচিবকে সকাল দশটায় দেখা করার জন্য ডাকেন। তারাও আসেননি। প্রায় ১ ঘন্টা পরে স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। এটি অসম্মান রাজ্যপালের প্রতি।

মেয়র বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানুষের দ্বারা নির্বাচিত। তিনি জানেন সব কিছু। আর রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে গত কয়েক মাস ধরে কি করছেন তা সবাই দেখছেন। তিনি আরও বলেন, আসানসোলের সাংসদকে করোনার সময় দেখতেই পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা তাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি রেগে যাচ্ছেন। আর এখন তিনি এসে রাজ্য সরকারের করা কাজগুলোকে নিজের করা বলে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিছু বলতে গেলে তিনি বলছেন দু’লক্ষ ভোটে জিতেছি। দু’লক্ষ ভোটে অবশ্যই তিনি জিতেছেন। কিন্তু সেটা তো আসানসোলের ভোটে জেতা। তাই তিনি যা খুশি করে যাবেন ও বলবেন সেটা মানুষকে তাকে সহ্য করতে হবে। তা ঠিক নয়। এলাকার সাংসদ ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় বোর্ড লাগিয়েছিলেন এই বলে যে, তার উদ্যোগে কাজগুলি হবে। কিন্তু পরে কাজ হয়নি। তাই সেখানে তিনি আর যান না।

এই প্রসঙ্গে মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারি, বাবুল সুপ্রিয়কে “বুলবুল সুপ্রিয়” বলেও কটাক্ষ করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বুলবুল পাখিরা যেমন চিৎকার করে। সাংসদ সেইমতো উচ্চস্বরে কথা বলেন। কিন্তু তার বেশিরভাগই অসত্য।

আরও পড়ুন:মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার আরও ১

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বাবুল সুপ্রিয় “অরণ্য প্রকল্পের” জন্য জমি চেয়ে মেয়রকে চিঠি দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এদিন মেয়র বলেন, অবশ্যই সেই চিঠি পেয়েছি। কিন্তু এই এলাকা বেশিরভাগ জমি কেন্দ্রীয় সংস্থা সেল, রেল ও ইসিএলের। তাই তারা এই প্রকল্পের জন্য জমি দিতে পারবে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা তৃণমুল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রাজ্যের শিক্ষক নেতা অশোক রুদ্র, জেলার দুই কোঅর্ডিনেটর হরেরাম সিং ও বিশ্বনাথ পাড়িয়াল।

Related Articles

Back to top button
Close