fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস করতে সরকারি হাসপাতাল চত্বর ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আরও বেশি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে আগ্রহী রাজ্য সরকারও। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলি পৃথক মেডিকেল কলেজ করতে গেলে জমি-জায়গার জটে অনেকটাই সময় নষ্ট হতে পারে। সেই সমস্যা মেটাতে এবার এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দফতর। জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে চাইলে ক্যাম্পাসের জন্য সরকারি হাসপাতাল ভাড়া নিতে পারবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে গত কয়েক দশক ধরে রাজ্যে ব্যবসা করে চলেছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই সমস্ত হাসপাতালে সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ভিন রাজ্যের এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরের মানুষজনও, যাদের সবসময় সরকারি ক্ষেত্রে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি মেডিকেল কলেজ তৈরি করে পড়ুয়াদের শিক্ষাদান করে, তাতে পড়ুয়ারা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু তাদেরকে পৃথকভাবে জমি দিয়ে মেডিকেল কলেজ করতে গেলে তা অনেকটাই সময় সাপেক্ষ। সেই কারণেই সরকারি হাসপাতাল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দফতর। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরকারি হাসপাতাল ব্যবহার করতে দিলে বাড়বে অর্থ উপার্জনও। এই বিষয়ে আগ্রহী প্রাইভেট সংস্থাগুলিকে আবেদনপত্র ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে ৩০০ বা তার বেশি শয্যার হাসপাতাল অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাতারাতি এই ধরনের হাসপাতাল দ্রুত তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে আগ্রহ ও অর্থ থাকলেও স্রেফ রেডিমেড হাসপাতাল না থাকায় রাজ্যের মেডিক্যাল শিক্ষায় বেসরকারি বিনিয়োগ পিছিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে
দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কমিশনের গাইডলাইন মেনেই ২০২১-২২ শিক্ষা বর্ষের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  হাসপাতালের ভাড়া কত হবে সেগুলি পরবর্তীকালে ঠিক করা হবে।
যদিও চিকিৎসক মহলের একাংশের দাবি, সরকারি হাসপাতালে গরীব, মধ্যবিত্তরা চিকিৎসা পান। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সেই হাসপাতাল নামমাত্র টাকায় ভাড়া নিয়ে ন্যাশানাল মেডিক্যাল কমিশনের ছাড়পত্র আদায় করবে এবং লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করে ব্যবসা করবে। এই নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম বলেন, ‘যেমন এতদিন নিখরচায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা চলত, এই ধরণের চুক্তির ক্ষেত্রেও তাই চলবে। বেসরকারি সংস্থা কোনও ভাবেই ভাড়ায় নেওয়া হাসপাতালের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আর বেসরকারি হাসপাতাল তাদের গাইডলাইন মেনে ছাত্র ভর্তির খরচ ঠিক করবে  এবং ছাত্রছাত্রীরা সেটা জেনে ভর্তি হবেন । এটা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই।’

Related Articles

Back to top button
Close