fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

টিজিটি স্কেলের দাবিতে গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের অবস্থান-বিক্ষোভ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা:   দেশের অন্যান্য রাজ্যে টিজিটি স্কেল ও ৪৬০০ গ্রেড পে অনুযায়ী বেতন প্রদান শুরু গেলেও পশ্চিমবঙ্গের গ্রাজুয়েট শিক্ষকরা এখনও বঞ্চিত। চূড়ান্ত বেতন বৈষম্যের স্বীকার পশ্চিমবঙ্গের স্নাতক শিক্ষকরা। ২০১৯ সালের টিজিটি স্কেল অনুযায়ী বেতন এখনও রোপাতে প্রকাশ করা হয়নি। গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষকের বেসিকে পার্থক্য হওয়ার কথা ২৭০০ টাকা কিন্তু পশ্চিম বঙ্গে তা ৯২০০ টাকা।

বাম আমলে তো হয়নি তৃণমূলের আমলে আরও বেহাল অবস্থা। তাদের ভাগ্য এখনও অপরিবর্তিত। মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন বিজিটি এ সম্পাদক সৌরেন ভট্টাচার্য। সোমবার থেকে সল্টলেকের ময়ূখ ভবনের সামনে মঞ্চ বেধে অবস্থান বিক্ষভে বসেছে রাজ্যের স্নাতক শিক্ষকরা। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন রাজ্য তাদের কথা না শুনলে এবার আইন অমান্য আন্দলনের পথে তারা নামবেন।

এদিন, বিজিটিএ সম্পাদক সৌরেন ভট্টাচার্য কার্যত তাদের এই বঞ্চনার প্রতিবাদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘কোর্টের রায়কে অমান্য করে রাজ্য সরকার অনৈতিক ভাবে স্নাতক শিক্ষকদের বঞ্চিত করছে। হাইকোর্টের রায়কে অহেতুক বিলম্ব করানো হচ্ছে। তাই মামলাটিকে সিঙ্গেল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য শিক্ষা দফতরে একাধিকবার ডেপুটেশন দিয়েও লাভ হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিধানসভায় দেখা করেছি। তিনি আস্বস্ত করার পরও এখনো কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দলনে নেমেছি।’

আরও পড়ুন: সিঁথির পুলিশ লকাবে মৃত্যু নিয়ে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

মঙ্গলবারও অবস্থানে অনড় স্নাতক শিক্ষকরা। প্রায় ৫০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলের পঠন পাঠন অক্ষুণ্ণ রেখে আন্দলন চালাচ্ছেন। ভাগে ভাগে স্কুলে হাজিরা বজায় রেখেই অন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। কারণ সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা তাই সেখানে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেকথা মাথায় রেখেই তারা আন্দোলন করছেন।  অন্দোলনের জন্য প্রথমে তাদের মঞ্চ বাধতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে তারা আন্দোলন শুরু করেন। এমনকি মঞ্চের বাইরে মাইক পর্যন্ত লাগাতে দেওয়া হয় নি। নিজেরাই পকেটের কড়ি খরচ করে টয়লেট আনা হয়েছে। আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা একই ভাবে অন্দোলন চলবেন। শুধু শিক্ষক নয় একই সঙ্গে শিক্ষিকরাও রাত দিন আন্দলনে সামিল হয়েছেন।

অনেকে আবার নিজের বাচ্চাকেও সঙ্গে এনেছেন। এদিন প্রমীলা মন্ডল তার বাচ্চা কে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। তার কথায়, ‘বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে অন্দোলন করা কোনও বড় বিষয় নয়। ন্যায্য দাবির জন্য এতুকু কিছুই নয়। বৃহত্তর আন্দলনে নেমেছি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছি।’ অপরদিকে অসুস্থ শিক্ষক মানব দাসও নিজের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে অন্দোলনে শামিল হয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close