fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

তুরস্কের সঙ্গে গ্রিস-ইউরোপের নতুন করে উত্তেজনা

আংকারা, ২১ আগস্ট: পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। আর এই অনুসন্ধান কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই গ্রিস ও পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং উপকূলীয় এলাকা নিয়ে গ্রিস এবং সাইপ্রাসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক। এ অবস্থায় গ্রিস ও সাইপ্রাসের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় তুরস্ককে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না করার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু, তারপরেও গত বৃহস্পতিবার আংকারায় একটি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিতর্কিত এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন এরদোগান। এসময় তিনি জানান, ‘পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের অধিকার থেকে তুরস্ককে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ইস্যুতে আমরা শতভাগ সঠিক অবস্থানে আছি। যদি আমরা জলদস্যুদের কাছে আত্মসমর্পণ করি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা মুখ দেখাতে পারব না। আমরা এমন কোনও দেশ আমাদের শিশুদের কাছে দিতে পারি না যেখানে তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে না, যেখানে তাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকবে।’

আরও পড়ুন:বসিরহাট থেকে আমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত দুই চক্রীর আশ্রয়দাতা গ্রেফতার 

এখানেই থেমে থাকেননি এরদোগান। বক্তব্যের মাঝে তিনি ফ্রান্সকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আমরা উপনিবেশবাদীদের বক্তৃতা শুনতে চাই না বরং আমরা শেষ পর্যন্ত আমাদের অধিকার রক্ষার লড়াই করব।’ এরদোগানের এই ধরনের আক্রমণাত্মক কথা আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা করতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কেননা, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাস দ্বীপ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল জুড়ে তুরস্কের তৎপরতার ফলে খুবই অসন্তুষ্ট এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস দ্বীপ কর্তৃপক্ষ। গত জুলাই মাসের শেষে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলি গত দুই বছর ধরে তুরস্কের কর্মকাণ্ডকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করে আসছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তুরস্কের এসব পদক্ষেপের ব্যাপারে উপযুক্ত জবাব না দেয় তাহলে তারা অনেক বড় ভুল করবে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের তৎপরতা ইউরোপের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং প্যারিস আংকারাকে এ সুযোগ কখনই দেবে না।’ একইসঙ্গে জার্মানির বিদেশ মন্ত্রীও তুরস্ককে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ‘আংকারা যেন এ অঞ্চলে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।’ কিন্তু, এইসকল কথায় কান না দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতেই তৎপর হয়ে উঠেছেন এরদোগান।

Related Articles

Back to top button
Close