fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বাংলা ত্রিপুরার দুই বন্ধুর ৩৯ বছর পর পুনর্মিলন ঘটালো হ্যাম রেডিও

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বাংলা আর ত্রিপুরা দুই পড়শি রাজ্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরম্পরা দীর্ঘদিনের। সেই নিবিড় সম্পর্ক আরও উষ্ণতা পেল শুক্রবার রাতে। যখন দীর্ঘ ৩৯ বছর পর ত্রিপূরার গোমতি জেলার উদয়পুর থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরের নোনা চন্দন পুকুরে ফোনটা এল। ফোন করেছেন ত্রিপুরা থেকে ছোটবেলার বান্ধবী সবিতা রায়, যাকে এতদিন পাগলের মতো খুঁজেছেন চন্দনা মিত্র(বসু)। শ্রাবণধারা নেমেছিল দুজনের চোখেই। আর প্রায় অসাধ্য এই কাজ করেছেন হ্যাম রেডিও ক্লাব ত্রিপুরা ও ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব।

কেমন করে লেখা হলো এই রূপকথা? চন্দনা মিত্র জানালেন, ওদের পরিচয় আগরতলায়। দুজনের বাবাই ‘ ন্যাশান্যাল এয়ারপোর্ট অথরিটির ‘কর্মী। বাবার চাকরিসূত্রেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা চন্দনার আগরতলায় যাওয়া। সেখানেই আলাপ সবিতা রায়ের সঙ্গে। একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণীর পড়াশোনা এক স্কুলে, থাকতেন একই আবাসনে। এমনি করেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, বন্ধুত্ব গভীর হয়। তারপর তাঁর বাবা বদলি হয়ে আসেন দমদম বিমানবন্দরে। সেই থেকে ছেদ পড়ে যায় দেখাশোনায়। তারপর এই দীর্ঘ সময় চন্দনা খুঁজেছেন বন্ধুকে। কিন্তু খোঁজ পাননি। তিনি বলেন, ‘ আমার স্বামী মানসকুমার মিত্র এ ব্যাপারে খুব সাহায্য করেছেন। উনিই হ্যাম রেডিও র সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস বলেন, ‘ চন্দনা দেবী এটুকুই জানাতে পেরেছিলেন ওঁর বান্ধবী ত্রিপুরার বাসিন্দা।আমরা তখন ত্রিপুরা হ্যাম রেডিও ক্লাবের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করি। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার সাফল্য মেলে। চন্দনা দেবীর বান্ধবী যার সঙ্গে গত ৩৯ বছর যোগাযোগ করা যায়নি তাঁর সঙ্গে রাতে চন্দনা দেবীর ফোনে আমরা কথা বলাই।

সবিতা রায় বর্তমানে ত্রিপুরা সরকারের গ্রামোন্নয়ন দফতরের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের আস্ত সহায়ক। এদিন সকালে ত্রিপুরা থেকে ফোনে সবিতা রায় বলেন, ‘ হ্যাম রেডিওকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। ভাবতেই পারিনি এতোবছর পর পুরনো বন্ধুর খোঁজ পাবো। বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুর সঙ্গে এতোবছর পর কথা বলতে পেরেছি। এই আনন্দ প্রকাশের ভাষা নেই। করোনা প্রকোপ কমলেই বন্ধুর বাড়ি যাবো।’

Related Articles

Back to top button
Close