fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ক্যাথিড্রাল হাগিয়া সোফিয়া হল মসজিদ, ইসলাম-ক্রিষ্টান দ্বন্দে তপ্ত তুরস্ক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত, দ্য কাউন্সিল অফ স্টেটের আদেশ মেনে ঐতিহাসিক হাগিয়া সোফিয়া সংরক্ষণশালা বা মিউজিয়ামকে মসজিদে পরিবর্তন করল তুরস্ক সরকার। স্থানীয় সময় শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এর্ডোগান ঘোষণা করেন ষষ্ঠ শতকের ওই বাইজেনটাইন আমলের মিউজিয়ামটি এবার মসজিদ রূপেই খোলা হবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় ক্রিশ্চানদের মধ্যে। সমালোচনা করেন ঐতিহাসিকরাও।
বিশ্বের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক আশ্চর্য, ইউনেস্কো ওয়র্ল্ড হেরিটেজের তালিকাভুক্ত হাগিয়া সোফিয়া মিউজিয়াম বরাবরই ইস্তানবুলে লক্ষ লক্ষ পর্যটককে আকৃষ্ট করেছে। ষষ্ঠ শতকে ক্রিশ্চান বাইজেনটাইন রাজবংশ এটাকে ক্যাথিড্রাল হিসেবে তৈরি করেছিল।

তারপর ১৪৫৩–তে অটোম্যান   কনস্ট্যান্টিনোপোল দখল করে রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পর ওই ক্যাথিড্রালকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। অটোম্যান রাজবংশ বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন গণতন্ত্রে ১৯৩৪ সালে তুরস্ক মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৩৫ সালে ওই মসজিদ হাগিয়া সোফিয়া মিউজিয়ামে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু দ্য কাউন্সিল অফ স্টেট ১৯৩৪ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে বলে, সম্পত্তি দলিলে হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ হিসেবেই উল্লিখিত আছে। তুর্কি ন্যায়মন্ত্রী শুক্রবার আদালতের রায়ের পর টুইট পোস্টে হাগিয়া সোফিয়ার ছবি দিয়ে সবাইকে শুভ শুক্রবারের শুভেচ্ছা জানান।

হাগিয়া সোফিয়াকে ফের মসজিদ হিসেবে ফিরে পেয়ে একদিকে যেমন মুসলিমদের খুশির বাঁধ ভেঙেছে। আরেকদিকে এভাবে একটা মিউজিয়ামকে মসজিদ করে দেওয়ায় ক্রিশ্চানদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

তুরস্কের নিন্দা করেছে রাশিয়ার গোঁড়া চার্চ থেকে শুরু করে ইউনেস্কোও। ইউনেস্কোর প্রধান অড্রে আজৌলে ঘটনায় গভীর শোকজ্ঞাপন করে বলেছেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই ওই কাজ করেছে তুরস্ক সরকার। আমেরিকার কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম সংগঠনও এর্ডোগান সরকারের এই পদক্ষেপকে স্মৃতিসৌধের রাজনৈতিকরণ বলে কটাক্ষ করেছে। ‌‌

Related Articles

Back to top button
Close