fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শুভ জন্মদিন… ভালো থেকো কল্লোলিনী তিলোত্তমা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কল্লোলিনী তিলোত্তমা ৩৩০তম জন্মদিন আজ। দীর্ঘ ৩৩০ বছর ধরে ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছে কল্লোলিনী তিলোত্তমা। এ শহরের আনাচে-কানাচে জড়িয়ে রয়েছে কত স্মৃতি। প্রতিটা ইট-কাঠ-পাথর সাক্ষী রয়েছে কতশত ইতিহাসের। অলিতে গলিতে রয়েছে নস্ট্যালজিয়া। আজ বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় শহরের জন্মদিন।ডিহি কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর মূলত এই তিনটি গ্রাম নিয়েই কলকাতার জন্ম হয়েছিল ১৬৯০ সালে। তার আগে পর্যন্ত এই তিনটি গ্রাম শাসন করতেন মুঘল সম্রাটের অধীনস্থ বাংলার নবাবরা। কিন্তু এই বছরই প্রথম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাবের কাছে থেকে বাংলায় বাণিজ্য সনদ লাভ করে। ১৬৯০ সালের ২৪ অগস্ট কলকাতায় আসেন জব চার্নক। দিল্লির মসনদে তখন রাজ করছেন ঔরঙ্গজেব। ১৬৯০ সালের ২৩ এপ্রিল এক আদেশনামায় সম্রাট বার্ষিক তিন হাজার টাকা শুল্কের বিনিময়ে ইংরেজদের বাংলায় বাণিজ্যের অনুমতি দেন। এরপর ইব্রাহিম খাঁর আমন্ত্রণে জব চার্নক ফিরে আসেন কলকাতায়। চার্নকের সুতানুটিতে আসার তারিখ ছিল ২৪ অগস্ট। তাই কেবল ইংরেজরা নন, দেশীয় ইতিহাসবিদদের অনেকেও এই তারিখটিকেই কলকাতা শহরের জন্মদিন বলে মনে করেন।

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো শহরগুলির মধ্যে একটি। উত্তর থেকে মধ্য, আর মধ্য থেকে দক্ষিণ – শহরটার যেদিকের চোখ রাখবেন, আশ্চর্য হয়ে যাবেন। আধুনিকতা আর বনেদিয়ানার কি দুষ্প্রাপ্য সংমিশ্রণ। সেই কবে জব চার্নক তিনটি গ্রাম – সুতানুটি গোবিন্দপুর আর কলকাতা নিয়ে কলকাতানগরীর পত্তন করেছিলেন। কালের নিয়মে মহানগরী আজ ঐতিহ্যমণ্ডীত, বিশ্ববন্দিত শহর। ভারতের সবচেয়ে পুরনো এই শহরের নাম বিশ্ব আঙিনায় অতি পরিচিত। ভারতে কোনও বিদেশি এলে কলকাতাতে আসবেনই। করণ, এই শহরে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান বা জিনিস আছে, যা আর কোথাও নেই। আর থাকলেও, কলকাতার সবকিছুই যেন ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যেটা আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

শিবের তান্ডব নৃত্যকালে সতীর দেহের একটি অংশ কালীঘাটে পড়েছিল। কালীঘাট মন্দিরটির নামানুসারেই সম্ভবত কলকাতার নামকরন করা হয়েছে বলে গল্পে গল্পে বলেছেন অনেকেই, আর তা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, কলিকাতা নামটি খাল ও কাটা অর্থাৎ খনন করা শব্দদুটি থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকতে পারে। এই অঞ্চলে কলিচুন ও দাতা বা নারকেলের ছোবড়া প্রচুর উৎপাদিত হতো । সে জন্যেই এই শহরের নাম হয়েছে কলিকাতা । এমনটাও বলেন কেউ কেউ। সে যাই হোক, ১৬৯০ সালের ২৪ অগস্ট এক মেঘলা দিনে কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলা জোব চার্নক। সেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে কলকাতার জন্মদিন হিসাবে। যদিও কেউ কেউ এর বিরোধিতা করে বলেন, চার্নক সাহেব আসার আগেও কলকাতায় মনুষ্যবসতি ছিল। ফলে তিনি কলকাতা শহরের জনক, এটা ঠিক নয়। কিন্তু এটা ঠিক যে, আধুনিক কলকাতা বলতে যা বোঝায়, তার পত্তন করেছিলেন জোব চার্নক-ই। ক্রমশ কলকাতাকে ঘিরে গোটা এশিয়ায় ব্রিটিশ শাসন আবর্তিত হয়েছিল।

১৬৯০ সালে আধুনিক কলকাতার পত্তনের পর থেকে ক্রমশ বাড়তে থাকে এর গৌরব। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জেতার পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার যে বিপুল সম্পদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়েছিল, তা দিয়ে কলকাতার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ১৭৭২ সালে তৎকালীন বড়লাট লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সুবে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে আনেন কলকাতায়। এতদিন শুধু বাণিজ্যিক গুরুত্ব ছিল কলকাতার। হেস্টিংসের এই সিদ্ধান্তে রাতারাতি কলকাতার রাজনীতিক, প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বেড়ে যায়। পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলা তথা ভারতে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতাই। ব্রিটিশ শাসনে কলকাতা কিছু গৌরবজনক ঘটনার সাক্ষী হয়।

কলকাতা মহানগরী তার সাহিত্যিক, শৈল্পিক ও বৈপ্লবিক ঐতিহ্যগুলির জন্য বিশ্ববিদিত। এই শহর কেবলমাত্র ভারতের পূর্বতন রাজধানীই ছিল না, বরং আধুনিক ভারতের শিল্প ও সাহিত্য চেতনার জন্মস্থানও ছিল। শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি কলকাতাবাসীদের বিশেষ আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে; নতুন প্রতিভাকে গ্রহণ করার ঐতিহ্য কলকাতাকে তাই পরিণত করেছে “প্রচণ্ড সৃজনীশক্তিধর এক শহরে”।এই সকল কারণে কলকাতাকে অনেক সময় “ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী” বলে উল্লেখ করা হয়। শতাব্দী প্রাচীন যানবাহন থেকে আম জনতার বেশভূষা, প্রসিদ্ধ খাবারের দোকান, বিখ্যাত অলগলি কিংবা দর্শনীয় স্থান, বাদ যায়নি কিছুই। নেট দুনিয়ায় উৎসাহ-উদ্দীপনা-উন্মাদনা বুঝিয়ে দিচ্ছে বয়স যতই বাড়ুক তা কেবল সংখ্যায়। এ শহরের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা একচুলও কমেনি। বরং আগামী দিনে বাড়বে।

মন ভালো নেই তিলোত্তমার।করোনা গ্রাস করেছে কল্কাতাবাসীর জীবন, আন্নদ-উল্লাস-আড্ডা হীন হয়ে পড়েছে সিটি অফ জয়’।  এখন ‘সিটি অফ কনটেনমেন্ট জোনস’। কলকাতা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ— বিস্তৃত অংশই ব্যারিকেডে ঢাকা পড়েছে। বাসিন্দারা বাইরে যেতে পারছেন না। এলাকার বাইরের মানুষও পারছেন না ভিতরে আসতে। সংক্রমণ ছড়িয়েছে কলকাতা জাদুঘর সংলগ্ন এলাকাতেও। পার্ক স্ট্রিটকে কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। কিন্তু পার্ক স্ট্রিট এখন যেন পাণ্ডববর্জিত স্থান। গোটা এলাকার প্রায় সব দোকানে ঝুলছে তালা। এমন নিঝুম পার্ক স্ট্রিট শহরবাসী কখনও কল্পনা করতে পারেনি। শুনসান কলেজ-ইউনিভার্সিটি চত্ত্বর। পাড়ার চা দোকানে নেই সেই আড্ডা। আজ আর চায়ের দোকানে হারিয়ে গেছে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক, খেলার মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।আজ যেন আমরা ব্যবধানের জীবন যাপন করছি। উৎসব যেন জাঁকজমক হীন হয়ে পড়েছে। এত কিছুর মাঝেও মনে দৃঢ় বিশ্বাস একদিক অন্ধকার কেটে আলো ফূটবেই…

 

Related Articles

Back to top button
Close