fbpx
কলকাতাহেডলাইন

অত্যাচার না জমি বিবাদ! হরিদেবপুরের বৃদ্ধা খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে ধন্দে পুলিশ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শাশুড়ির মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে মা-বাবা ও মামার সঙ্গে মিলে শাশুড়িকে খুনের কথা জানিয়েছিল প্রগতি ময়দান থানার আড়ুপোতা গ্রামের সুজাতা গায়েন। কিন্তু বিয়ের ২৫ বছর পর শাশুড়ির অত্যাচারই খুনের একমাত্র কারণ, তা বিশ্বাস করতে রীতিমত সমস্যা হচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে এই ঘটনা যে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। ধৃতদের আরও দাবি, তাদের নতুন কেনা জমির বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন সুজামানি গায়েন নামে ওই বৃদ্ধা। এই বক্তব্য খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আর কি কি কারণ থাকতে পারে, তা জানতে ধৃত বৌমা সুজাতা গায়েন, তার মা-বাবা ও মামাকে ক্রমাগত জেরা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হরিদেবপুরের কবরডাঙার বাসিন্দা খোকনের সঙ্গে সুজাতার বিয়ে হয়েছে প্রায় ২৫ বছর আগে। ওই দম্পতির এক ছেলে দ্বাদশ শ্রেণী ও অন্য ছেলে দশম শ্রেণীতে পড়ে। লেক মার্কেট অঞ্চলে ফুল বিক্রি করতেন সুজামানি। বৌমা সুজাতা কিছুদিন আগে থেকেই ছিলেন বাপের বাড়িতে। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেয়াই মলিনা সুজামণির বাড়িতে গিয়ে বলেন, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান তিনি। মেয়ের বাপের বাড়িতে একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া হবে। বেয়াইয়ের বাড়ি যেতে রাজি হয়ে ওই বৃদ্ধা।
ওই দিন সকাল থেকে মলিনা রান্নাবান্না করেই রেখেছিলেন। ময়না তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে  খুন রাতে নয়,  হয়েছিল দুপুরের দিকেই। কারণ সুজামণির পেটের সমস্ত খাদ্য অর্ধপাচ্য থাকলেও তা ছিল দুপুরের খাবারই। ধৃতদের আরও জেরা করে জানা যায়, দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর বিকেলের দিকে বৌমার বাবা বাসু মণ্ডল তাঁর মাথায় হঠাৎই লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর শ্বাসরোধ হয় খুন করা হয় বৃদ্ধাকে। খুনের পর সবজির বস্তার মধ্যে দেহটি রেখে দেওয়া হয়। বিকেল-রাতের মধ্যে দেহ পাচার করলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই জন্য প্রায় ১২ ঘন্টা দেহটি ওই অবস্থায় থাকে। শুক্রবার ভোররাতে সবজির বস্তার আড়ালে দেহটি বাসন্তী হাইওয়ের পাশের খালে ফেলে দেওয়ার জন্য ট্যাক্সিও তৈরি ছিল।কিন্তু ঠিক মত জায়গা পাওয়ার আগেই ট্যাক্সিটিকে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে তারা ধরা পড়ে যায়।
নিজের বাড়ি থাকতেও কেন বৌমার বাপের বাড়ির কেনা জমিতে সুজামানি থাকতে চাইবেন, তা বোধগম্য হচ্ছে না তদন্তকারীদের। এই নিয়ে বৃদ্ধার ছেলে খোকন গায়েনের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে পুলিশ, বাড়িতে সত্যিই এরকম কোনও আলোচনা হয়েছিল কি না। তদন্ত বিভ্রান্ত করতেও অভিযুক্তরা এরকম দাবি করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত দম্পতি ও তার মেয়ে এবং মেয়ের মামাকে আলাদাভাবে ও মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close