fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

প্রবল বর্ষণে তিস্তায় হড়পা বান, জারি লাল সতর্কতা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  উত্তববঙ্গের অঝোর ধারায় ঝরে চলেছে বৃষ্টি। প্রবল বর্ষণে ভাসছে উত্তরবঙ্গ। তার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন চূড়ান্ত রকম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। গত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র মালবাজারেই বৃষ্টি হয়েছে ১৪৩ মিলিমিটার যা কার্যত রেকর্ড। হাসিমারায় বৃষ্টি হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। এই বিপুল বর্ষণের জেরে এখন ফুলে ফাঁপে উঠেছে ডুয়ার্সের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া নদীগুলি। সিকিমের বুকেও ভারী বৃষ্টি হওয়ায় হু হু করে জল বাড়ছে তিস্তার। তার জেরে জলপাইগুড়ি জেলার দোমোহানী থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি শহরের নীচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টির সর্তকতা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এই ৫ জেলায় প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়ে দিয়েছিল সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ডুয়ার্সের বুকে। বাস্তবে এখন সেটাই দেখা যাচ্ছে। হিমালয়ের পাদশেশের এলাকায় বৃষ্টি একনাগাড়ে হয়ে চলেছে গত ৩৬ ঘন্টা জুড়ে। তার জেরেউ পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলিতে জল বাড়তে শুরু করেছে। কার্যত নদীগুলি ফুঁসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের বেশ কিছু নীচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু এলাকা থেকে স্থানীয় মানুষজনকে সরে আসার নির্দেশও দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে তিস্তার চর থেকে যত দ্রুত সম্ভব মানুষজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ এদিন গজলডোবা জলাধার এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছে এদিন দুপুর ৩টের মধ্যেই সেখানে ১১সেমি জলস্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। তার জেরে পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আমফান-দুর্নীতি: হাওড়ায় দল থেকে বহিষ্কার ৩, জানালেন মন্ত্রী অরূপ রায়

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি তে তিস্তা নদীতে আচমকা হড়পা বান। নদীর মধ্যেই চরে আটকে বিপজ্জনক ভাবে চল্লিশটি হাতি। এরমধ্যে আটটি হস্তিশাবক রয়েছে। ঘটনাস্থলে রাজ্য সরকারের বন বিভাগ, দমকল, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পৌঁছেছেন। হাতিদের বাঁচাতে সাহায্য চাওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর। শিলিগুড়ির সোনাদা আর্মি বেস ক্যাম্পে জরুরী মিটিং। হাতিদের ওপর নজর রাখতে অন্য বায়ুসেনার হেলিকপ্টার।

সিকিমে লাগাতের বৃষ্টির জেরে তিস্তায় হু হু করে বাড়ছে জল। তার জেরে এদিন গজলডোবার তিস্তার জলাধার থেকে ৩২১৮.৭২ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ফলে জলস্তর বৃদ্ধি হয়েছে গজলডোবার পরবর্তী নিম্ন তিস্তার বুকে। সেই কারনেই শুক্রবার সকাল থেকে লাল ও হলুদ উভয় সংকেত জারি করা হয় দোমোহানী থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত তিস্তার দুইধারের এলাকায়। নীচু এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close