fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ শুধু চুনোপুঁটিদের ক্ষেত্রে: টিআইবি

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘চুনোপুঁটিদের’ নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। মঙ্গলবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, ক্ষমতাবানরা এখন ‘বিচারহীনতা উপভোগ’ করছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, “কোভিড-১৯ সংকটের মাঝে যেসব অভাবিত ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে দুর্নীতি যে দেশে সর্বব্যাপী একটা রূপ নিয়েছে এটাই এখন অপ্রিয় সত্য। এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কী করণীয় আছে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা থাকলেও এখনকার বাস্তবতায় তা কী অর্থ বহন করে, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। “আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই ঘোষণার বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে শুধু চুনোপুঁটিদের টানাটানিতে। অথচ এই পর্যায়েই দুর্নীতির যে ভয়াবহতার কথা আমরা জেনেছি, তাতে এই প্রক্রিয়ার মূল কারিগর, যারা পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে, তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও আর্থিক মূল্য কী হতে পারে, সেটা চিন্তা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়।”

একজন ছাত্রনেতার হাজার কোটি টাকা পাচার করার খবর গণমাধ্যমে আসার কথা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আরও ওপরের দিকের দুর্নীতিবাজ নেতাদের অবস্থা তো আমাদের কল্পনারও বাইরে। অথচ তাদের কারও বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থার খবর তো আমরা কখনও দেখিনি।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত ক্ষমতার ‘বি-টিমের’ ভূমিকা পালন করছে অভিযোগ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক অন্য যে কোনোভাবে ক্ষমতাবানরা বিচারহীনতা উপভোগ করছে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ ঘোষিত রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাইছে টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি, গণমাধ্যম ও দেশবাসীর স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

Related Articles

Back to top button
Close