fbpx
অন্যান্যগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

হাথরস কাণ্ডে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, পুরনো পারিবারিক শত্রুতার জেরেই কি এই ঘটনা!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  হাথরস কাণ্ড নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল। এর পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। তবে এরই মাঝে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্যাতিতার পরিবার এবং ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যতম অভিযুক্ত সন্দীপের পরিবারের মধ্যে ২৩ বছর পুরনো পারিবারিক শত্রুতা জড়িত রয়েছে।

 

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাবা অভিযুক্ত সন্দীপের বাবার বিরুদ্ধে এসসি/এসটি অ্যাক্ট এবং মারধর করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। এদিকে হাথরাসে তরুণীর ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত রামুর মায়ের দাবি, দুই দশক ধরে চলা পারিবারিক কোন্দলের ঘটনার ফলাফল হথরাসের কাণ্ড। তাঁর দাবি, পারিবারিক ঘটনার জেরে মিথ্যা মামলায় তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো মামলায় তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নামে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রতারণা, গ্রেফতার তিন প্রতারক

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রবি ও সন্দীপের বাবা এর আগে ২০০১ সালে মৃতের দাদুকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে জেল গিয়েছিল। রবি সেই সময় ১৩ বছরের কিশোর ছিল। রবিকে সেই সময় মিথ্যা মামলায় ধর্ষিতার পরিবার জড়িয়ে দেয় বলে দাবি করেছেন রামুর মা। রামের মায়ের চাঞ্চল্যকর দাবি বলছে, সেই সময় নির্যাতিতার দাদু ইচ্ছাকৃত নিজেকে মারধর করে ভুয়ো মামলায় ফাঁসায়। হাথরাসের ঘটনায় ধৃত ৩ অভিযুক্তই আত্মীয়। এদের বাড়ি একে অপরের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে। অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা নিজেদের কাজের জায়গায় ছিল। আর তার প্রমাণও রয়েছে।

নির্যাতিতা তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে মাঠে ঘাস কাটছিলেন ওই তরুণী। কিছুক্ষণ পর হাতে ঘাসের বান্ডিল নিয়ে ভাই বাড়ি ফিরে এলেও তখনও মাঠে কাজ করছিলেন মা-মেয়ে। জানা গিয়েছে, ঘাস কাটতে কাটতে মায়ের থেকে কিছুটা দূরে চলে যায় ওই তরুণী। কিছু সময় পর মাঠে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তাঁর খোঁজ শুরু করেন ওই তরুণীর মা এবং পরিবারের লোকেরা।

এরপর কিছুটা দূরে দোপাট্টা জড়ানো অবস্থায় বাজরা খেতের মধ্যে মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকেরা। তরুণীর পরিবারের দাবি, মোট চার থেকে পাঁচ জন উচ্চবর্ণের যুবক তাঁদের মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে বাজরা খেতের মধ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। নির্যাতনের পরিমাণ এতটাই বেশী ছিল যে, ওই তরুণীর ঘাড়ের হাড় এবং শিরদাঁড়া ভেঙে গিয়েছিলো। পঙ্গু অবস্থায় খেতের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন তরুণী।

শেষমেশ একটানা ১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তরুণীর। মেয়েটির মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে চুপিসারে দাহ করে দেয় পুলিশ। এদিকে পুলিশের ভূমিকায় দেশের সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তরুণীর উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সর্বত্র। নির্যাতিত মৃতা তরুণীর হয়ে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। একাধিক রাজনৈতিক নেতা দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close