fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘‌হিংসার আগাম খবর’‌ ‌ পেয়েই মাঝরাতে দাহ, হাথরস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বলল উত্তরপ্রদেশ সরকার’

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বড় ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটতে পারত। তা এড়াতেই মাঝরাতে দাহ করে দেওয়া হয় হাথরসের গণধর্ষিতাকে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে এই যুক্তি দিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এবার এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জবাবদিহি করল উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। জানাল, তরুণীর দাহ ঘিরে পরের দিন হিংসা ছড়াতে পারে বলে আগাম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গোয়েন্দারা। রাজ্যের ‘‌আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা হতে পারে’‌। সেসব এড়াতেই রাত আড়াইটায় ক্ষেতের মধ্যে দাহ করা হয় ১৯ বছরের তরুণীর দেহ।

শীর্ষ আদালতে পেশ করা হলফনামায় রাত ২.৩০টেয় নিগৃহীতার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার যুক্তি দিতে গিয়ে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের রায়দানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।বুধবার সকালে ছিল বাবরি-কাণ্ডের রায়। সেই নিয়ে আগে থেকেই গোটা উত্তরপ্রদেশে সতর্কতা জারি ছিল। সে যুক্তিও হলফনামায় তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। হলফনামায় সরকার জানিয়েছে, ‘‌২৯ সেপ্টেম্বর সকালে সফদরজঙ হাসপাতালের সামনে যেভাবে ধরনা চলছিল এবং বিষয়টিতে জাতি বা সাম্প্রদায়িক রঙ লাগানো হচ্ছিল তা থেকেই গোয়েন্দারা বারবার হাথরস প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল।’‌ রাজ্য আরও জানিয়েছে, তারা এও জানতে পেরেছিল যে পরের দিন হাথরসে জড়ো হতে চলেছেন উভয় সম্প্রদায় এবং বর্ণের লাখ লাখ বিক্ষোভকারী, রাজনীতিক এবং সংবাদ মাধ্যম। এর ফলে ‘‌হিংসা ছড়াতে পারত’‌। চরম অব্যবস্থা হতে পারত। ভেঙে পড়তে পারত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের কথায়, ‘‌এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন মৃতার বাবা-মাকে বুঝিয়ে দাহর জন্য রাজি করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর সমস্ত ধর্মীয় রীতি মেনে দাহ করা হয় শুধুমাত্র হিংসা এড়ানোর জন্য। তাছাড়া মৃত্যু এবং ময়নাতদন্তের পর ২০ ঘণ্টা কেটে গেছিল।’‌ তারা এও বলল, ময়নাতদন্তের পর ‘‌অন্য কোনও খারাপ উদ্দেশ্যে’‌ এসব করা হয়নি। সরকারের যুক্তি, ময়নাতদন্ত একবার হয়ে যাওয়ার পর শেষকৃত্যের ক্ষেত্রে অন্য কোনও খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতিভেদের চেষ্টা করায় এবং তার থেকে হিংসার সম্ভাবনা থাকায়, মাঝরাতেই পুলিশ দেহটি দাহ করে দেয়।

আরও পড়ুন: “এটাই রাজনীতি করার বড় সুযোগ”, হাথরাস নিয়ে মন্তব্য কংগ্রেস নেতা শশী থারুর

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে দিল্লি থেকে হাথরাস যাওয়ার পথে কেরলের এক সাংবাদিক-সহ ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ। জানা গিয়েছে, এরা পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার সদস্য। এই সংগঠনকে উত্তরপ্রদেশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আতিউর রহমান, সিদ্দিক কপ্পান, মাসুদ আহমেদ ও আলম নামে এই চারজন দিল্লি থেকে হাথরাসে যাচ্ছিল। এই সময় তাদের রাস্তায় থামানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং কিছু লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। যা রাজ্যের শান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট। সেই কারণেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close