fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

১৫ দিনের লড়াই শেষ, মৃত্যু উত্তরপ্রদেশে গণধর্ষণে শিকার দলিত যুবতীর

ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছে আট বছর আগে দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণের স্মৃতি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছে আট বছর আগে দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণের স্মৃতি। অবশেষে হার মানলেন উত্তরপ্রদেশের ‘গণধর্ষিতা’ মহিলা।  চারজন মিলে ধর্ষণ করেছিল। ১৫ দিন লড়াইয়ের পর উত্তর প্রদেশের হাতরাস অঞ্চলের ১৯ বছরের দলিত যুবতীর মৃত্যু হল। মঙ্গলবার সকাল ৬ টা নাগাদ দিল্লির সফদর জং হাসপাতালে ওই মহিলা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দিন পনেরো আগে তাঁকে প্রথমে জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিয়ে আসা হয় সফদরজঙে। এদিন পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট ভিক্রান্ত বীর তাঁর মৃত্যুর খবর সুনিশ্চিত করেছন। দলিত সম্প্রদায়ের ওই মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনায় চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত চার জনই উচ্চবর্ণের।

তিনিই জানাচ্ছেন, অপরাধীরা কেবল ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে যান ওই যুবতী। তার পর থেকে তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক পরিত্যক্ত জায়গায় তাঁর খোঁজ মেলে। অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন তিনি। শরীর ভেসে যাচ্ছিল রক্তে। তাঁর জিভও ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, শ্বাসরোধ করায় তিনি নিজের জিভে কামড় দিতে বাধ্য হন।

জেএনএমসি হাসপাতালের চিকিত্‍সকদের সূত্রে খবর, ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে মহিলার উপর। প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও করে দুষ্কৃতীরা। মুখমণ্ডলে একাধিক জায়গা, জিভে কামড়ের গভীর ক্ষত। শিরদাঁড়া ও ঘাড় মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। “তাঁকে ভেন্টিলেশনে নিতে হয়েছিল। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনকই ছিল। নিম্নাঙ্গ প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল।  সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয় দিল্লির হাসাপাতালে পাঠানোর।

আরও পড়ুন: ফের উত্তপ্ত সীমান্ত, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান, পাল্টা জবাব ভারতের

নির্যাতিতার ভাই বলেন, ”গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরস এলাকায় বাড়ির কাছেই একটি জমিতে মা ও আমার সঙ্গে জমিতে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন দিদি। বিকেলের দিকে আমি বাড়িতে চলে আসি। মায়ের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন দিদি। সেই সময় পিছন থেকে দিদিকে আক্রমণ করে কয়েক জন দুষ্কৃতী। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টানতে টানতে একটি বাজরা খেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নৃশংস অত্যাচার চালায় ও গণধর্ষণ করে। পরে মা খুঁজতে খুঁজতে দিদিকে উদ্ধার করেন অচৈতন্য অবস্থায়।”

পুলিশের অনুমান, শ্বাসরোধ করায় তিনি নিজের জিভে কামড় দিতে বাধ্য হন। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে নিহত মহিলার পরিবার। মহিলার ভাই বলেন, ”পুলিশ প্রথমে আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। দ্রুত পদক্ষেপ করেনি। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর তদন্ত শুরু করেছে।” যদিও হাথরসের পুলিশ অফিসার প্রকাশ কুমার বলেন, ”ঘটনার পরে পরেই প্রথমে গ্রেফতার করা হয় এক জনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বাকি তিন জনের নাম জানার পর দ্রুত তাদেরও ধরা হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুনের চেষ্টা, তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে চলছে চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়া। যদিও পরে চার অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চারজনই তথাকথিত উচ্চবর্ণের পরিবারের সদস্য।

 

Related Articles

Back to top button
Close