fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্য সরকারের ধান বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে

মিল্টন পাল, মালদা: রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের পর এবার নিজের দলের বর্তমান বিধায়ক ঘনিষ্ট প্রধানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরীর।

মুলত রাজ্য সরকারের ধান বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর। এই প্রধান বর্তমান ইংরেজবাজারের বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষের ঘনিষ্ঠ। প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অস্বীকার প্রধানের। ওই প্রধান কোনওভাবেই দুর্নীতির সাথে যুক্ত নয় বলে দাবি নিহার রঞ্জন ঘোষের।

জানা গিয়েছে ইংরেজবাজারের যদুপুর ২ গ্রামপঞ্চায়েতে প্রায় চারশোজন গ্রামবাসীর জিরো ব্যালেন্সের একাউন্ট খোলেন প্রধানের মাধ্যমে। সেখানে গ্রাহকদের ব্যাঙ্কের সমস্ত কাগজ প্রধান নিজের কাছে রেখে দেন প্রধান। এরপর তাদের নামে ধান বিক্রি,প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্য ঢোকে। যা প্রধান সহ আরও চারজন ওই টাকা গ্রাহকদের অজান্তে তুলে নেয়।

বেনিফিসিয়ারী জিন্নাতুল বিবি বলেন, প্রধান তাদের সমস্ত ব্যাঙ্কের কাগজ নিজের কাছে রেখে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমরা ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণেন্দু বাবু দাবি করে বলেন,রাজ্য সরকার যে ধান বিক্রির টাকা অর্থ বরাদ্দ করেছে সেই টাকা বেনিফিশিয়ারিদের না দিয়ে ইংরেজবাজার যদুপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাজ্জাদ আলি আত্মসাৎ করেছে। এই নিয়ে গত এক মাস আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু কোনওলাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‌ সাজ্জাদ আলী বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ।এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ব্যাংকে উপভোগ তাদের খাতা খুলে দিয়েছি। সরাসরি তাদের একাউন্টে টাকা ঢুকেছে। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আসলে আমি ইংরেজি বাজারের বর্তমান বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষের ঘনিষ্ঠ। আর সেই কারণেই হয়তো আমার বিরুদ্ধে কৃষ্ণেন্দু বাবু এই কথা বলছেন।

ইংরেজবাজারের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ বলেন, আমি যতুটুকু জানি সবটা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।যদুপুর দুইয়ের প্রধান মমতা বন্ধোপাধ্যায়ের একজন সৈনিক। দলমত নির্বিশেষে দলের নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচিত হয়েছে। সে দূর্নীতির সাথে যুক্ত কেউ যদি একথা বলে তবে প্রমানিত হয় না। ওই প্রধান কোনো দুর্নীতির সাথে যুক্ত নয়। প্রধানের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরে তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে অনেকে। কিছু মানুষ দলকে মেলাইন করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে।

তৃণমূলের এই গোষ্ঠী কোন্দল তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে বিজেপি।এই নিয়ে কার্যত কৃষ্ণেন্দুর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি।বিজেপির মালদা জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন এক সময় আমরা দুর্নীতির অভিযোগ করেছি। এখন তৃণমূলের নিজেদের দলের লোকেরাই অভিযোগ করছে। এর থেকে বোজা যাচ্ছে তৃণমূল দুর্নীতিগ্রস্ত দল। গোটা ঘটনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও এবিষয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close