fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা রোগীদের নিয়মভঙ্গে উদ্বেগ, সমাধানে সমস্ত পুরসভাকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকল স্বাস্থ্য দফতর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হোম আইসোলেশনে থাকলে রোগীরা ভাল থাকবেন, এমনটাই অনুমান করে মৃদু করোনা উপসর্গের একাধিক রোগীকে অনুমতি দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। কারণ উপসর্গের বাড়াবাড়ি না হলে হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, করোনা রোগীরা চিকিৎসকদের পরামর্শ না নিয়েই ওষুধ খাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করছেন না। ফলে সুস্থতার বদলে অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বাইরের থেকে হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের হাসপাতালে বেশি ভর্তি করতে হচ্ছে।

তাই তাদের ওপর আরও কিভাবে নজরদারি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্যের সমস্ত পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধানের সঙ্গে আজ, বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্স করতে চলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম।

করোনা রোগীদের ওপর সমীক্ষা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতর দেখছে, হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের একটা বড় অংশ করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এমনকি পরিবারে একজনের কোভিড পজিটিভ হলে অন্যরা টেস্ট না করেই সংক্রমিতের প্রেসক্রিপশন দেখেই নিজেরা ওষুধ খাচ্ছেন। যাঁদের হাই ব্লাড সুগার বা কিডনিজনিত কো-মর্বিডিটি আছে তাঁরা অনেকে আচমকাই সংকটে পড়ছেন। তাই শেষ মুহূর্তে ভেন্টিলেশনে দিয়েও মৃত্যু আটকানো যাচ্ছে না।

সেই কারণেই ঘরবন্দি রোগীরা যাতে ডাক্তারের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকেন, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার আইএমএ বা ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। আরোগ্য সেতুর মত কোনও অ্যাপ বানানো যায় কি না, তাও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

তাদের মতামতের ভিত্তিতেই কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, এই জেলাগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সব চেয়ে উদ্বেগজনক হওয়ায় সেখানকার আইএমএ সভাপতি-সম্পাদক, পুর প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্বাস্থ্য ভবন বলে সূত্রের খবর। তারপর শনিবার স্বাস্থ্য দফতরই পুরসভাগুলিকে হোম আইসোলেশন ‘পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে একটা বিশেষ মডিউলের প্রশিক্ষণের ঘোষণা করবে। আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ শেষে পুরসভা থেকে পাড়ার চিকিৎসকরাই হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের ওপর নজরদারি করবেন বলে দাবি স্বাস্থ্য ভবনের।

Related Articles

Back to top button
Close