fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অমাবস্যার ভরা কোটালের দেহাটী খালের বাঁধ উপচে জল শতাধিক বাড়ির উঠানে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : অমাবস্যার ভরা কোটালে দুপুরে কোলাঘাটের দেহাটি খালের বাঁধের উপর কোলা স্লুইশ দিয়ে ও স্লুইশ পার্শ্ববর্তী কাটানো অংশ দিয়ে জল ঢুকে কোলা, পাইকপাড়ি, সাহাপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক দোকান এবং বাড়ির উঠোনে জল ঢুকে গিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কোলাঘাট জশাড় রাস্তা প্রশস্তকরনের জন্য পূর্ত দপ্তর ওই স্লুইশটি নতুন করে তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই সময় তাঁরা যে বাঁধটি কাটিয়েছিল, সেটা আর বাঁধেনি। এবং স্লুইশের ওই গেটটি নুতন করে লাগায়নি। ফলস্বরূপ এই বিপত্তি ঘটেছে।

সন্ধ্যায় আগামী জোয়ার আসার আগেই ওই অংশ সিল করে দেওয়া না হলে, রাত্রিতে জোয়ার বেশি হলে আরো বিপত্তি ঘটবে। বিষয়টি জরুরীকালীন তৎপরতায় দেখতে অনুরোধ জানিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক রাজ্যের সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দপ্তরের আধিকারিক এবং জেলা শাসককে আবেদন জানিয়েছেন।

দীঘাতেও জলোচ্ছ্বাস প্রবল আকার নিয়েছে। এতদ সময়ের মধ্যে এ ধরনের জলোচ্ছ্বাস পর্যটকরা দেখেনি বলেই অভিমত রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মহাপাত্রের। ইতিমধ্যে সমুদ্রের বাঁধ টপকে জল ঢুকেছে শঙ্করপুর, জলধা, ট্যাংরামারি, চাঁদপুর, মান্দারমনি, জামড়া, তালগাছাড়ি, দাদনপাত্রবাড় সহ বিস্তির্ণ এলাকায়। পর্যটকরাও খুশি জলোচ্ছ্বাস দেখে। প্রশাসন অবশ্য সচেতন এমতবস্থায় যাতে কোনো দুর্ঘটনায না ঘটে।

প্রতি বছর অমাবস্যার কোটালে দীঘাতে জলোচ্ছ্বাস দেখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পর্যটক দীঘায় যান। এবার কোরোনা উদ্ভুত লকডাউন পরিস্থিতিতে যেতে মন চাইলেও যেতে পারেননি হাকোলা হাইস্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহিত কুমার মিশ্র। খুব মন খারাপ বাড়ির অন্যদেরও। আসলে গত পাঁচ মাস একটানা ঘরে বসে বসে বিরক্ত হয়ে উঠছে সবাই। ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষাও শেষ। অথচ বেড়াতে যেতে পারেননি। এমতবস্থায় দীঘার জলোচ্ছ্বাস দেখতে পাওয়া অন্যরকম হতে পারতো।

তমলুক শহরেও রূপনারায়ণের জলে ডুবেছে বেশ কিছু এলাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে রাস্তা ও বসতবাড়ি। নদীবাঁধও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে কোথাও কোথাও। আশঙ্কায় দিন গুনছেন কোলাঘাট, তমলুক সহ খেজুরী, দীঘা এলাকার মানুষজন।

Related Articles

Back to top button
Close