fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করতে এগিয়ে এসেছিলেন বীর যোদ্ধারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করতে এগিয়ে এসেছিলেন বীর যোদ্ধারা। সেদিনের আন্দোলনকারীদের দিনহাটা যোগেশ চন্দ্র দাশ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বন্দী হয়েছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময়ই তার কেটেছে সেলুলার জেলে। সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক পেনশন তাম্রপত্র ছাড়া আজও মেলেনি পরিবারের কোনও সরকারি পরিচয় পত্র। স্বাধীনতা দিবসের আগে এই আক্ষেপ আজও তাদের কুড়িয়ে বেড়ায়।

দেখতে দেখতে দেশের স্বাধীনতার ৭৪ বছর পার হলেও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবারের আজও সরকারি পরিচয় পত্র মেলেনি তেমনি ঘোষণা করা হয়নি জাতীয় পরিবার হিসেবে। ১৯৭৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মেলনে দাবি উঠেছিল পরিবারগুলিকে জাতীয় পরিবার হিসেবে ঘোষণার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ম্যায় কৌশিশ করেঙ্গে। তারপর আততায়ীর হাতে তার মৃত্যুর পর সেদিনের প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাস আজও তাদের প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়। শনিবার ১৫ ই আগস্ট দেশের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস। তার আগে শুক্রবার দিনহাটা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ মোড় এলাকায় নিজের বাড়িতে বসে আক্ষেপের কথা শোনালেন প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শুভাশিস দাশ। স্বাধীনতা দিবস এই দিনটি তাদের কাছে আলাদা এক অনুভূতি।

                        আরও পড়ুন: করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হচ্ছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা

প্রতিবছর এই দিন বাড়িতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বাবার ছবিতে পুজো দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন দাশ পরিবার। এ বছরও স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তারই প্রস্তুতি শুরু করেছেন। জাতীয় পতাকার সামনে রেখে দিয়েছেন বাবা যোগেশ চন্দ্র দাসের ছবি। পাশেই সাজানো তাম্রপত্র। এই দুয়ের মাঝে রয়েছে জাতীয় পতাকা।

শুভাশীষ দাশ জানান স্বাধীনতা আন্দোলনে অনেকেই শহীদ হয়েছেন অনেকেই কারাবরণ করেছেন। দিনহাটা থেকে কারাবরণ করেছিলেন তার বাবা যোগেশ চন্দ্র দাস ছাড়াও শীতলাবাড়ির হরিদাস সাহা, বামনহাটের সতীশ বসু রায়।স্বাধীনতার সেই উত্তাল দিনগুলিতে আন্দোলনে যোগ দিয়ে তার বাবা ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হয়ে দ্বীপান্তরিত হয়েছিলেন শুধু আন্দামানে। সেখানে সেলুলার জেলেই জীবনের অনেকটা সময় কাটে তার বাবার। নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় ভারত বর্ষ। দীর্ঘ আন্দোলনের দেশ স্বাধীন হলেও সরকারের দেওয়া সামান্য পেনশনের কয়েকটি টাকা ও একটি তাম্রপত্র নিয়ে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বলে জানান শুভাশিস। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন তার বাবার মৃত্যুর পর কেউ এর খোঁজ নেননি তাদের পরিবারের। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী দিনহাটার যোগেশ চন্দ্র দাশের পরিবারের আক্ষেপ সরকারের কাছ থেকে মরণোত্তর কোন এক সম্মান পেলে দেশের জন্য লড়াই করে আসা তাদের উত্তরসূরির আত্মা তৃপ্ত হত। দেশের স্বাধীনতার আনন্দে রাষ্ট্রীয় সম্মানী হত তাদের পরিবারের কাছে শুধু অহংকারী হতো না হত তাদের কাছে মূল্যবান অলংকার।

Related Articles

Back to top button
Close