fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

নিউটাউনে শুরু হল অ্যাপ বেসড পাবলিক সাইকেল পরিষেবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবেশ বাঁচাতে নিউ টা উনে শুরু হল সাইকেল এপ। মঙ্গলবার এই এপের উদ্বোধন করেন পুরমন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। নিউটাউনে আবারও নতুন করে পথ চলা শুরু করলো অ্যাপ বেসড পাবলিক সাইকেল। ইতিমধ্যেই শহরাঞ্চলে গাড়ির ধোঁয়া থেকে পরিবেশ দূষণের মাত্রা যে ভাবে বাড়ছে তাতে চিন্তায় ফেলে ছিল রাজ্য সরকারকে। তাই এবার কিছুটা হলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে আবারও শহরের বুকে ফিরিয়ে আনা হল দু চাকার সাইকেল।

প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১০০টি সাইকেল সহযোগে শুরু হবে পরিষেবা। কোনো যাত্রী এই সাইকেল নিয়ে শহরের যে কোনো জায়েগায় যেতে পারেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাইকেল জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট স্টেশনে। চাটার্ড নামক অ্যাপ দিয়ে সাইকেল বুক করে তবেই সাইকেল নেওয়া যাবে। পরিষেবার জন্য মূল্য ও নির্ধারিত করা হয়েছে। যা অ্যাপ এর মাধ্যমে জানা যাবে। একটি স্ট্যান্ড থেকে সাইকেল নিয়ে অপর যেকোনো স্ট্যান্ডে সেটিকে রেখে দেওয়া যাবে। সাইকেল স্ট্যান্ড গুলোর পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ডকি।

আপাতত নিউটাউনে পাঁচটি এরকম সাইকেল ডকি তৈরি করা হয়েছে। একটা অ্যাক্সিস মলের কাছে, একটি নিউটন বাস স্ট্যান্ডের কাছে, একটি নভোটেলের সামনে। তবে এইরকম আরও ২১টি সাইকেল ডকি তৈরি হবে । এনকেডিএ অফিস থেকে বিশ্ব বাংলা গেট ও ইকোপার্ক পর্যন্ত মোট ১৭ কিলোমিটার আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে সাইকেলের জন্য।

এই প্রসঙ্গে এদিন হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন জানান, “করোনার সময় সাইকেলে করে গেলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়। যা গনপরিবহনে সম্ভব নয়। সেই কারনেই এই উদ্যোগ”। দেবাশিস বাবুর কথায়, “সবাই যেমন গাড়ি কিনতে পারে না তার জন্য অ্যাপ ক্যাবের ব্যবস্থা রয়েছে। তেমনি সাইকেল কিনে রাখার সমস্যা রয়েছে শহরের অনেকের বাড়িতেই। সেই কারণে এই উদ্যোগ”। অতীতেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সাইকেল গুলোর পরিচর্চার অভাব এবং অনেকেই সাইকেল নিয়ে নিজেদের বাড়ি চলে গেছেন, আর ফেরত দেননি।যার ফলে পরিবেশ বান্ধব যাতায়াতের চিন্তা ভাবনা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিন এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে এসে পুরমন্ত্রী জানান, “এই উদ্যোগ যেটা দেবাশীষ সেন নিয়েছেন সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার যুগ। সেই দিক থেকে সাইকেলটা ভালো। দ্বিতীয়তঃ আমরা যদি আমরা যত গাড়ি চড়বো ততো দূষণের মাত্রা বাড়বে। তাই গ্রিন সিটি তৈরীর লক্ষ্যে সাইকেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা যতদূর সাইকেল করে যাবো ততটাই দূষণ কমবে এবং পেট্রোল বাঁচবে। আমি বিদেশেও দেখেছি সেখানে বিশেষ করে সবাই সাইকেল নির্ভর”। তবে এখানে আবহাওয়া সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলে, “অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি সাইকেল চালাতে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। কয়েকটা মাস আছে যখন আমরা স্বচ্ছন্দভাবে সাইকেল চালাতে পারি”।

নিউটাউনে এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলেও শহর কলকাতায় এই উদ্যোগ নিয়েও পিছিয়ে আসতে হয়ছে প্রশাসনকে।

Related Articles

Back to top button
Close