fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উন্নতমানের কলা চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি:  সারা ভারতবর্ষের নিরিখে যে ফলগুলির নিবিড় ভাবে চাষ করা হয় তার মধ্যে কলা অন্যতম। বিভিন্ন আর্থসামাজিক পরিকাঠামোর মানুষেরই এই ফল প্রিয়। ভারতবর্ষের তামিলনাড়ু এই ফল উৎপাদনে প্রথম| সারা ভারতে ৮৩০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। হটিকালচার বিভাগের তথ্য অনুযাযী তামিলনাড়ুতে ৫১৩৬.২ মাইক্রোটন, গুজরাতে ৪৫২৩.৪৯ মাইক্রোটন, পশ্চিমবঙ্গে ১০৭৭.৮ মাইক্রোটন, আসামে ৮৩৭.০২১ মাইক্রোটন এবং ওড়িশা ৫২১.৩১ মাইক্রোটন কলার চাষ হয়।

এবার আসা যাক কলা চাষের পদ্ধতিতে| প্রথমে জমিটি ১-২ বার চাষ দিযে নিতে হবে| তারপর দু’বস্তা জৈবসার ও এক বস্তা রাসাযনিক সার দিযে জমিটিকে পুনরায চাষ করতে হবে। কলা চাষের জন্য দো-আঁশ মাটি সব থেকে ভালো, তবে এঁটেল মাটিতেও এর চাষ হয়| এরপর মাটিকে ড্রেনের মতো করে কলার চারা বসানোর জন্য সারি কেটে নিতে হবে। ৪ হাত বাই ৪ হাত দূরত্বে কলার চারা লাগাতে হবে| মনে রাখতে হবে, কলার চারা রোপনে সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারা উভযের দূরত্বই হবে ৪ হাত| এই দূরত্বে বসালে বিঘা প্রতি ৪০০ টি চারা বসানো সম্ভব। চারা বসানোর দিন পর একবার সেচ দিতে হবে। এরপর একমাস হলে প্রতি সপ্তাহে কম-বেশি সেচ এবং ২০-২৫ কিলো রাসাযনিক সার দিলে ফলন ভালো হয়| প্রতি সপ্তাহেই এই সেচ এবং সার দিতে হবে| শুধু রাসাযনিক সার নয়, জৈবসারও মাঝে মাঝে দেওয়া উচিত। একটি চারা বসানোর ১০-১১ মাস পরে ফল কাটা যায়| কলাগাছে মোচা আসার আগে দানাসার এবং মোচা পড়ে যাওযার পর পটাশ দিলে ফলন ভালো হয়। মূলত পটাশে কলাগাছের গোড়া শক্ত হয এবং কলা মোটা ও সুন্দর হয়।

কলার জমি হতে হবে উঁচু| কলাগাছের গোড়ায জল জমলে কলাগাছ নষ্ট হয়ে যায়| সেচের পরেও নজর রাখতে হবে জল যে জমে না থাকে| মাঝে মাঝে মাটি একটু কুপিযে দিতে হবে| কলা এবং কলাপাতায় যাতে দাগ না আসে তার জন্য বেবিস্টিন বা ওস্তাদ তেল স্প্রে করা উচিত| একটি কলাগাছকে অন্য একটি কলাগাছের সঙ্গে বেধে রাখা প্রযোজন কারণ গাছে ফুল আসলে পর অনেক সময অসমযে কলাগাছ পড়ে যায| নাইলন কিংবা কারের সুতো দিযে বেধে রাখলে গাছ পড়ে যায না| বাঁশের সঙ্গেও বাধা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: অর্ধমুক্তাঙ্গন পদ্ধতিতে ছাগলপালন

একবার কলার কাদি কেটে নেওযা পর প্রতি গাছেই একটি করে ছোট চারাগাছ রেখে দেওয়া হয়| প্রথম বছর কলার চারা লাগালে সেই গাছ থেকেই ছোট ছোট গাছ রেখে তিনবার ফলন করা সম্ভব| বিঘা প্রতি ৪০০ গাছে প্রথম বছর ৮০ হাজার, দ্বিতীয বছর ৫০ হাজার এবং তৃতীয বছর ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন চাষীভাইরা| বিঘা প্রতি খরচ হবে ২০-৩০ হাজার টাকা| একটি কাদিতে নীচের দিকে ১০০ পিস আর উপরের দিকে ১৫০পিস কলা হয়| আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এর বাজার চাহিদা সর্বোচ্চ হয়| কাদি  প্রতি ৪০০ টাকা পান চাষীভাইরা| তবে শীতকালে ফলন কম থাকে, চাহিদাও তাই।

Related Articles

Back to top button
Close