fbpx
অন্যান্য

উন্নতমানের লাভজনক বেগুন চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধ: সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে অথবা অল্প শীতে বেগুন ভালো হয়। ভারতবর্ষে এবং ভারতের আশেপাশের দেশগুলিতে বেগুন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত একটি সবজি।  বাংলাদেশ, বর্মা, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে বেগুন খুবই প্রিয় একটি খাদ্য। এছাড়াও কিছু চাষ হয ইতালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,  ফ্রান্স এবং ফিলিপিনসে।  প্রতিকূল আবহাওয়ায় বেগুন চাষ সম্ভব। তবে খুব উঁচু জায়গায় অর্থাত্ পাহাড়ী অঞ্চলে বেগুনের চাষ ভালো হয় না। বেগুন সারা বছর চাষ করা যায়। বেগুন যেন লম্বাটে গড়নের হয়, তেমন গোলও হয়। আবার ডিম্বাকৃতি ধরনেরও হয়। এর রং যেন কালচে বেগুনী হয়, তেমন সাদা, সবুজ, হলুদ বিভিন্ন রংয়ের দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সর্বাধিক প্রিয় বেগুন জাতের নাম পুসা পার্পেল। এই বেগুনটি .৭০-৮০ দিনের মধ্যে মাঠ থেকে তোলা যেতে পারে। শীতকালে বেগুন মাঠে রোপন করলে প্রায় ১০০ দিন লাগে ফলন পেতে।

খুব ভালো সময বেগুন পেতে গেলে বা অধিক মাত্রয় পেতে গেলে যা করতে হবে তা হল বেগুন যখন গাছ থেকে জমির কাছাকাছি চলে আসে, ওই সময সর্বাধিক বেগুন পাওযা যায়। বেগুন চাষে চাষীদের ভালো লাভ হয| মোটামোটি গড় ফলন জ্ঞ্রতি হেক্টর .৩০০ কুইন্টাল। এছাড়াও আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির বেগুন পাওযা যায়।

আজাদ ক্রান্তি-লম্বাটে বেগুন, যা আমরা বাজারে প্রায়ই দেখি, এগুলো বেশ নরম এবং উজ্জ্বল সবুজ রংয়ের হয়। এর ফলন প্রতি হেক্টর ৩৮০ কুইন্টাল। আরেক রকম বেগুন হল পুসা হাইব্রিড। এগুলো বেশ বড় আকারের। রোপন থেকে ফলন পাওয়া পর্যন্ত ৮০ দিন লাগে। মোটামোটি ৩৮০ কুইন্টাল প্রতি হেক্টর ফলন আশা করা যায়। আরও অনেক প্রজাতির বেগুন আমাদের দেশে চাষ করা হয, যেন বুমা পার্পেল, অর্ক, দুধিয়া প্রভৃতি|

মাটির চরিত্র আগেই বলেছি, বেগুন বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জন্মায়। বালি মাটি থেকে এঁটেল মাটি পর্যন্ত সব পরিস্থিতিতেই বেগুন চাষ হয় বেগুন চাষ যে জমিতে হবে, সে জমিতে অন্তত পক্ষে ৪-৫ বার লাঙল চালাতে হব। তারপরে বীজ বপন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যখন জমি তৈরি হবে, অর্থাত্ বীজ বপনের আগে প্রচুর জৈব সার মাটিতে মেশাতে হবে।  প্রচুর জৈব সার মেশানোর পরে নাইেট্রোজেন ১০০ কেজি, ফসফেট ৫০কেজি এবং পটাশ ৫০ কেজি প্রয়োগ  করতে হবে। কিন্তু ভুল করেও একসঙ্গে  প্রয়োগ করবেন না।  কিছুদিন পরে পরে উপরোক্ত সার তিনবার প্রয়োগ করুন। বেগুনের রোপনের সময দুবার হতে পারে। জুন, জুলাই মাস এবং আরেকবার নভেম্বর মাসে। দেশের দক্ষিণে অবশ্য আগস্ -সেপ্টেম্বর মাসে বেগুন চাষের কাজ শুরু হয়। বীজ প্রতি হেক্টরে ৫০০ গ্রাম থেকে ৭৫০ গ্রাম প্রয়োগ করুন। হাইব্রিড বীজ হলে হেক্টর প্রতি ২৫০ গ্রাম বীজ প্রয়োগ করুন।

নার্সারি তৈরি .৩ মিটার লম্বা ও ১মিটার চওড়া ব্লক তৈরি করে তার সঙ্গে ১৫কেজি আর্সেনিক সার মেশাতে হবে। এই একটি  ব্লকে (৩মি/১মি) জল দিযে ভিজিয়ে ১ গভীরতায় বীজ  বপন করতে হবে। বীজ  বপনের পর ওই  ব্লকে আগাছা থাকলে তা উঠিযে ফেলে দিন।

আরও পড়ুন: শশা চাষ ও পরিচর্যা…..

রোগমুক্তির উপায় গাছ যখন ছোট থাকে তখন ১ লিটার জলে দুই গ্রাম ক্যাসন্টো (ঔষুধের নাম) ছিটিয়ে দিন। ওই প্রক্রিয়ায় রোগমুক্তির সম্ভাবনা থাকে। যদি হঠাৎ ঠান্ডা পড়ে যায় তাহলে গাছের ওপরে সন্ধ্যার দিকে একটি কভার বা ক্যানভাস দিযে ঢেকে দিন। ৪-৫ সপ্তাহ পরে চারা গাছগুলো রোপন করার সময হয়।

সেচ অন্ড জল দিযে মাঝে মাঝে সেচ দিতে পারলে জমিটা ভালো থাকে। গাছের ফলনও বাড়ে। বেগুনের ফলনও বেশি হয়। বেগুনের পোকা-বেগুনের পোকা লাগা প্রায়ই দেখা যায়। নিম্নলিখিত পোকাগুলো হতে গাছকে সাবধানে রাখতে হবে।

১) গুটি বোরার– বেগুনের ভিতরের পোকাগুলো ঢুকে যায়।

২) ফ্রুট বোরারএই পোকাগুলো কালো রংযেয় হয়। প্রথমে এরা পাতাগুলো খায়, তারপরে বেগুনের ভিতরে ঢুকে পড়ে।

৩) এফিডস পশ্চিমবঙ্গে এফিডসের আক্রমণ ডিসেম্বর মাসে পরিল্রিত হয়। এই আক্রমণ ঠেকাতে মনোক্রোটোফস স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

বেগুনের ক্যাক্টেরিযাল রোগ থাইরাম ব্যবহার করুন প্রতি লিটার জলে তিন গ্রাম থাইরাম মিশিয়ে স্প্রে করুন। এবার যে সব গাছ রোগমুক্ত আছে সেই গাছগুলো থেকে বেগুন কেটে নিন। এই ভাবে পরিচর্যা করে বেহণি চাষে লাভবান হতে পারেন চাষীরা।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close