fbpx
কলকাতাহেডলাইন

নিজেদের ব্যর্থতা তুলে ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছনোর দাবি জানাল আরবুটা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে রাজ্যগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই সরকার যেন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনে ইউজিসি-র সাথে কথা বলে পুজোর ছুটির পর অফলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এমনটাই দাবি জানানো হয়েছে আরবুটার তরফে। পাশাপাশি একান্তই পরীক্ষা নিতে হলে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেটিতে সমস্ত পড়ুয়াই নির্ঝঞ্ঝাট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে বলেও এদিন জানান তাঁরা।
এই করোনা আবহেও পরীক্ষা ব্যতীত কোনোও পরুয়াকেই পাস করানো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টও সেই সিদ্ধান্তে সীলমোহর দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরবুটার তরফে কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষামন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, সরকার যেন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনে ইউজিসি-র সাথে কথা বলে পুজোর ছুটির পর অফলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। কারণ, এই মুহূর্তে চূড়ান্ত বর্ষের/সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার নৈতিক অধিকার শিক্ষকদের নেই। অফলাইনে এই বর্ষের বা সেমিস্টারের সিলেবাসের প্রায় কিছুই পড়ানো সম্ভব হয় নি। সাধারণ পেপারগুলি সামান্য কিছু পড়ানো গেলেও স্পেশাল পেপার অনেক বিষয়েই লকডাউনের আগে শুরুই করা যায় নি। অনলাইনে নেওয়া ক্লাসে অর্ধেকেরও বেশি পড়ুয়া অংশগ্রহণ করতেই পারে নি। তাছাড়া দৃশ্যকলার মত হাতে ধরে শেখানোর কাজ যে বিষয়গুলিতে রয়েছে, সেই ক্লাসগুলি পড়ুয়ারা সরাসরি করতে না পারলে তার ফল তাদের সারা জীবন ভুগতে হবে। একাডেমিক সেশন যখন পিছিয়েই গেছে, তখন আর কয়েকদিন পিছিয়ে, কিছু অফলাইন ক্লাসের পর পরীক্ষা নিলে পড়ুয়াদের বিশেষ ক্ষতি তো হবেই না, বরং কয়েকদিন ক্লাস করে পরীক্ষায় বসলে তা তাদের ভবিষ্যতের জন্য একাডেমিকেলি অনেকটাই নিরাপদ হবে।
এছাড়াও আরবুটার তরফে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিতে হলে যা একমাত্র সম্ভব হোম এসাইনমেন্ট বা প্রজেক্ট বেসড্ ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমেই। সেক্ষেত্রে শিক্ষকেরা প্রজেক্টের টপিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেবেন। পড়ুয়াদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হবে সেই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করে জমা দেওয়ার জন্য। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েব প্লাটফর্মে তাদের প্রজেক্ট, বা ফলিত কলার ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স রেকর্ড করে, জমা দেবে। কেবল প্রজেক্টের ছবি তুলে পাঠালেও তা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও পড়ুয়ারা প্রজেক্ট জমা দিয়ে যেতে পারবে। শিক্ষকেরা দ্রুততার সাথে সেই প্রজেক্ট অ্যাসেস করে নম্বর জমা দিয়ে দেবেন। সেই অনুযায়ী দ্রুত রেজাল্ট বের করতে হবে। এই পদ্ধতিতে যারা অংশগ্রহণ করতে না চাইবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ রাখতে হবে।
এ বিষয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, “কেন্দ্র ও রাজ্যের বৈরিতার শিকার কোন ভাবেই যাতে পড়ুয়ারা না হয়, সে বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কে দেখতে হবে। পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেটা আশু কর্তব্য তা হল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ইউজিসি-র সাথে কথা বলে পরীক্ষার বিষয়ে যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করা। উপাচার্যদের রাজ্য সরকারের হ্যাঁ তে হ্যাঁ না মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোনমির বিষয় টি মাথায় রেখে পড়ুয়াদের সবচেয়ে ভাল যাতে হয়, সেই সিদ্ধান্তই নিতে হবে। শিক্ষা বিষয়ে পলিটিক্যাল সিদ্ধান্তের জাঁতাকলে না পড়ে একাডেমিক সিদ্ধান্তকেই সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close