fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হিন্দু নির্যাতন থামান, হাসিনাকে চাপ বাংলার হিন্দুত্ববাদীদের, পেট্রাপোল বন্দর অবরুদ্ধ করার হুমকি

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে মৌলবাদের বিরুদ্ধে  ফ্রান্সকে সমর্থন করার ঘটনায় হিন্দুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবার সরব হলেন বাংলার হিন্দুত্ববাদীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজ্যেও ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন তাঁরা। বাংলাদেশ সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘অবিলম্বে হিন্দুদের জেহাদিদের হাত থেকে নিরাপত্তা দিন।’ শুধু তাই নয়, নির্যাতন বন্ধ না হলে পেট্রাপোল বন্দর অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা!

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বজরং দলের পক্ষ থেকে বাংলার সবকটি জেলায় এই ঘটনায় জেলাশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সম্পাদক অলোক সুর এবং বজরং দলের প্রান্ত সংযোজক সমীরকান্তি নস্কর বলেন, ‘আমরা জানি কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের কুমিল্লাতে, যে ভাবে হিন্দুদের উপরে অত্যাচার হয়েছে ,তার জন্য সেখানকার হিন্দুরা সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের কে সহযোগিতা করার জন্য। তাই বিশ্ব হিন্দুপরিষদ ও বজরং দলের পক্ষ থেকে ৬ নভেম্বর থেকে বাংলার সর্বত্র ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি আমরা এনিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছি।’

হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের কর্মকর্তারা আরও বলেন,‘ আমরা ধারাবাহিক ভাবে দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন অব্যহত রয়েছে। তাঁদেরকে ভিটা-মাটি ছাড়া করার পরিকল্পনা করেছে জেহাদিরা। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই ঘটনার প্রতিকার ও বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তার চেয়ে মোদি সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন।’

এদিকে হিন্দু নির্যাতন বন্ধ না হলে এশিয়ার বৃহত্তর স্থলবন্দর পেট্রাপোলকে অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন,‘বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিভিন্ন অজুহাতে বার বার হিন্দুদেও ওপর আক্রমণ করছে জেহাদি শক্তি। তারা বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করে ‘দারুল ইসলাম’ প্রতিষ্টা করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল পাক দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে। কিন্তু স্বাধীনতার পর পাক প্রভাব আর আইএসআইয়ের সক্রিয়তায় এখন বাংলাদেশ পাক মানসিকতায় চলছে। তাই এর থেকে বের হতে ওপারের মুক্তমনাদের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।’

ক্ষুব্ধ দেবতনুবাবু বলেন,‘ আমরা কেন্দ্র সরকারকে চিঠি দিয়ে বলেছি এনিয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করে লাভ হবে না। বাংলাদেশিদের এদেশে আসার ভিসা বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা কলকাতার সব বেসরকারি হাসপাতালে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি, হিন্দু নির্যাতন বন্ধ না হলে আপনারা বাংলাদেশিদেরও চিকিৎসা প্রত্যাখান করুন। যদি এই নির্যাতন বন্ধ না হয় তাহলে বাংলার সব হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে একজোট কওে আমরা পেট্রাপোল বন্দরকে অবরুদ্ধ করে রেখে দেব।’
অপরদিকে এই ঘটনায় পথে নেমেছে রাজ্য বিজেপির উদ্বাস্তু সেল। সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহিত রায় বলেন,‘আমরা রাজ্যের সব নাগরিকের কাছে প্রচারপত্র দিয়ে আবেদন করেছি, বাংলাদেশের দুর্গাপুজায় জেহাদি আক্রমণ এবং ফ্রান্সের ঘটনার অজুহাতে ওপারের হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গবাসী সোচ্চার হন। আমরা জানি রাজ্যে গ্রেফতার হওয়া জেহাদি এবং খাগড়াগড় ও বসিরহাটের সন্ত্রাসের উৎসস্থল বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মৌলবাদি জেহাদিরা এক এবং অভিন্ন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে আমাদের।’

Related Articles

Back to top button
Close