fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পূর্ব মেদিনীপুরে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলোচ্ছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ

শান্তনু অধিকারী, সবং: পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় সর্বত্র ধ্বংসলীলা চালিয়েছে আমফান। দীঘাতে তেমন আঘাত না হানলেও জেলার অন্যান্য ব্লকগুলির চিত্র কিন্তু আজও করুণ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, সারা জেলায় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২২লক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বাড়ি। সম্পূর্ণরূপে ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে সমুদ্র সংলগ্ন প্রায় তিন হাজার মৎস্যজীবী পরিবার। বরবাদ হয়ে গিয়েছে জেলার তিল, বাদাম, ফুল, ধান, পান, সবজি প্রভৃতি চাষ। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৩৪২ মেট্রিক টন মাছ ও ১০৫ মিলিয়ন চারাপোনা। এমনকি ঝড়ের তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে ১৭২টি নৌকাও। ভেঙেছে প্রায় চল্লিশ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি। বিধ্বংসী সাইক্লোনের পরে এক সপ্তাহ কেটে গেলেও জেলার অনেক জায়গাই আজও বিদ্যুৎহীন।

আমফানের তাণ্ডবে কাঁথি, নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম, খেজুরী, পটাশপুর, রামনগর, তমলুক প্রভৃতি এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ কার্যত সব হারিয়ে পথে বসেছেন। কিন্তু অভিযোগ, দুর্যোগের সাত দিন কেটে গেলেও ত্রাণের ব্যাপারে আজও তেমন কোনও উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। ফলে আক্ষরিক অর্থেই দিশাহারা অবস্থা আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। পরিজনদের নিয়ে পড়েছেন চূড়ান্ত বিপাকে। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। মঞ্চের উদ্যোগে এদিন দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা এলাকার নয়াপুট অঞ্চলের ঝাড় কোশবাড় গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হল ত্রাণসামগ্রী। দেওয়া হয় ত্রিপল ও আলু-পেঁয়াজ-সহ শুকনো খাদ্যসামগ্রী।

গ্রামের মানুষজনের মধ্যে এদিন করোনা প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি আর্সেনিকা অ্যালবাম ৩০ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওআরএসের প্যাকেটও। ঝাড়কোশবাড়ের অনন্ত প্রামাণিক, রামেশ্বর প্রধান, সন্তোষ প্রামাণিকরা জানালেন, প্রশাসনের থেকে এখনও কিছু পাননি। তবে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফ থেকে এই ত্রাণসামগ্রী পেয়ে বললেন, ‘খুব উপকার হল। খানিকটা রসদ পেলাম।’

মঞ্চের মেদিনীপুর বিভাগের সংগঠন সম্পাদক বুবাই ঘোষ জানালেন, প্রাথমিকভাবে জেলার পাঁচশোটি পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনা মতো, এদিন দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার অধীন সমুদ্র লাগোয়া গ্রামগুলোতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আগামীকাল অন্যান্য ব্লকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন তিনি। বুবাই ঘোষ জানালেন, ‘সারা জেলা জুড়ে যা ক্ষতি হয়েছে, সে তুলনায় এই ত্রাণ তেমন কিছুই নয়। তবে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেলেও থেমে থাকবে না মঞ্চের এই উদ্যোগ।’ এই আশ্বাসবাণীতেই আপাতত ভরসায় বুক বাঁধছেন সবহারানো মানুষজন। এভাবেই আমফানের অন্ধকারে আশার আলো দেখাচ্ছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।

Related Articles

Back to top button
Close