fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

বাংলাদেশে দুর্গাপুজোয় ৩ দিনের সরকারি ছুটির দাবি হিন্দু মহাজোটের

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবশৃংখলে সংগঠনটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রমাণিক আশা প্রকাশ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ৩ দিনের ছুটির দাবিটি আসন্ন দুর্গাপুজার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করবেন।

গোবিন্দ প্রমাণিক বলেন, দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যগণ পরিবার পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য সারাবছর এই দিনগুলির জন্য অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দূর্গাপুজায় ৫ দিনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সরকারিভাবে মাত্র একদিনের ছুটি থাকে, সেটাও বিজয়া দশমীর দিন; ফলে কারো পক্ষেই পরিবার পরিজনের সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে না। বিজয়া দশমীতে পিতা মাতা, গুরুজন ও প্রতিবেশীদের প্রণাম করা ও আর্শিবাদ গ্রহণ একটি ধর্মীয় সামাজিক রীতি।

কিন্তু এক দিন ছুটি থাকায় কারো পক্ষেই গ্রামে গিয়ে পিতা মাতা বা গুরুজনদের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ থাকে না। ফলে পুজার দিনগুলি বাবা-মা , সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মানষিক কষ্টের মধ্যেই কাটাতে হয়।

গোবিন্দ প্রামাণিক আরও বলেন, করোনা দুর্যোগের শুরু থেকে বাংলাদেশে ব্যপকহারে হিন্দু নির্যাতর শুরু হয়েছে, যা এখন ব্যপক আকার ধারন করেছে। সারাদেশে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাংচুর, মন্দিরে চুরি, জমি দখল, দেশত্যাগে বাধ্য করতে হামলা, জমি,বাড়ি-ঘর জোরপূর্বক দখল, ইসলাম ধর্ম অবমাননার অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং লুঠতরাজ চলছে। একইসঙ্গে আশংকাজনক হারে বেড়েছে হিন্দু কিশোরী অপহরণ।

হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামীর বলেন, সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও কার্যক্ষেত্রে তার কোন প্রয়োগ নেই। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় দুটি ধর্মীয় উৎসবে ৬ দিনের সরকারি ছুটি ভোগ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি দুর্গাপূজায় ৩ দিনের ছুটির দাবিটি উপেক্ষিত।

সমাবেশে নির্বাহী সভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, সারাদেশে প্রতিমা ভাংচুরসহ সকল হিন্দু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আগামী ১৭ সেপ্টেম্বেরের মধ্যে দূর্গাপুজায় ৩ দিনের ছুটির দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না হলে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বের শুক্রবার সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ করা হবে। এবং কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রদীপ পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় ভট্টাচার্য, যুগ্ম মহাসচিব নকুল মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় ভট্টাচার্য, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সহ সভাপতি কাকলী নাগ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বিশ্বাস, হিন্দু মহাজোটের ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি ডিকে সমির, নির্বাহী সভাপতি অখিল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিপুন চন্দ্র পাল, ঢাকা জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক গোপাল পাল, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের সভাপতি সঞ্জয় শীল, সহ সভাপতি তুলন পাল, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, হিন্দু যুব মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ শঙ্কর, প্রধান সমন্বয়কারী প্রশান্ত হালদার, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, সাধারণ সম্পাদক সজিব সকুন্ডু তপু প্রমূখ।

Related Articles

Back to top button
Close