fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

দুর্গাপুজোয় ৩ দিনের সরকারি ছুটির দাবিতে বাংলাদেশের ৫৬ জেলায় মানবশৃঙ্খল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হিন্দু মহাজোটের

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: দুর্গাপুজোয় ৩ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশজুড়ে মানবশৃংখল করেছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোয় তিনদিনের ছুটি দাবি করে আসা সংগঠনটি শুক্রবার ঢাকাসহ ৫৬ জেলায় মানবশৃঙ্খল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

এসব সমাবেশে হিন্দু মহাজোটের নেতারা বলেন, ‘সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও কার্যক্ষেত্রে তার কোন প্রয়োগ নেই। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় দুটি ধর্মীয় উৎসবে ৬ দিনের সরকারি ছুটি ভোগ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি দুর্গাপুজোয় তিনদিনের ছুটির দাবিটি উপেক্ষিত।

আরও পড়ুন: ‘মোদি সরকার কৃষক দরদী, নতুন কৃষি বিলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন বাংলার কৃষকেরা’

হিন্দু মহাজোট নেতারা আশা করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের তিনদিনের ছুটির দাবিটি আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী আদেশে ঘোষণা করবেন। এদিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত মানবশৃংখল ও প্রতিবাদ সমাবেশে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রমাণিক বলেন, দূর্গাপুবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনগুলোতে পরিবার-আত্মীয়দের সঙ্গে মিলিত হতে আমরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকি।

           আরও পড়ুন: তৃণমূল বিজেপির দালালি করে কংগ্রেস দিকে আঙুল তুলছে: অধীর

কিন্তু দুঃখের বিষয়, দূর্গাপুজোর পাঁচ দিনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সরকারিভাবে মাত্র একদিনের ছুটি থাকে, সেটাও বিজয়া দশমীর দিন; ফলে কারো পক্ষেই পরিবার-আত্মীয়দের ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে না। বিজয়া দশমীতে পিতা মাতা, গুরুজন ও প্রতিবেশীদের প্রণাম করা ও আর্শিবাদ গ্রহণ একটি ধর্মীয় সামাজিক রীতি। কিন্তু একদিন ছুটি থাকায় কারো পক্ষেই গ্রামে গিয়ে পিতা মাতা বা গুরুজনদের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ থাকে না। ফলে পুজোর দিনগুলি পিতা মাতা সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মানষিক কষ্টের মধ্যেই কাটাতে হয়।

তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগের শুরু থেকে দেশে ব্যাপকহারে হিন্দু নির্যাতন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাংচুর, মন্দিরে চুরি, জমি দখল, দেশত্যাগে বাধ্য করতে হামলা, জমি-বাড়ি-ঘর জোরপূর্বক দখল, ইসলাম ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা মামলা দিয়ে হিন্দুদের গ্রেপ্তার ও তাদের ব্ািড়-ঘর ভাংচুর করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে হিন্দু কিশোরী অপহরণের ঘটনা।

 

গোবিন্দ বাবু প্রতিমা ভাঙচুর সহ সকল হিন্দু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দূর্গাপুজোয় তিনদিনের সরকারি ছুটির দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

ঢাকার সমাবেশে হিন্দু মহাজোটের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল কুমার মন্ডল, গোপাল পাল, তপন বর্মন, সুজন সরকার, সুমন কর্মকার, সুনিল কর্মকার, নিলকমল বর্মন, প্রদীপ পাল, কাকলী নাগ, মুক্তা বিশ্বাস, ডি কে সমির, অখিল বিশ্বাস, শ্যামল ঘোষ, নিপুন চন্দ্র পাল, সঞ্জয় শীল, তুলন পাল, শ্যামল ঘোষ, প্রদীপ শঙ্কর, প্রশান্ত হালদার, সাজেন কৃষ্ণ বল, সজিব সকুন্ডু তপু, রাম শঙ্কর শীল, প্রকাশ বাড়ৈ  প্রমূখ।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close