fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন! দু’মাসে ৫০টি নির্যাতন : হিন্দু মহাজোট

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের মধ্যেও বাংলাদেশে বেশ কিছু হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। করোনা আতঙ্কে মানুষ যখন জীবন বাঁচতে ঘরবন্দি তখন এসব ঘটনায় বাকরুদ্ধ বিবেকবান মানুষ।

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের হিসেব মতে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৫০টির বেশি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আর মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ দাবি করেছে, লকডাউনের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে ২১টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাঙচুর, জমি দখল, জোর করে ধর্মান্তরিত করা, ধর্ম অবমাননার অজুহাতে হিন্দু বাড়িতে হামলা।
সোমবার হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রমাণিক যুগশঙ্খকে বলেন, করোনা আতঙ্কের মাঝেও বাংলদেশে হিন্দু সম্প্রদায় মহা আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছে। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা, মন্দির প্রতিমা ভাংচুর, ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে মিথ্যা মামলায় হিন্দুদের গ্রেপ্তার ও হিন্দুদের জমি-বাড়ি দখলের ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে ৫০টির উপরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা অতিতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। দুঃখের বিষয় অনেক স্থানেই মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। আসামিদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে।

গোবিন্দবাবু বলেন, দেশের নানাস্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন বন্ধে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচের প্রধান অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের সমস্ত মানুষ যখন মৃত্যু আতঙ্কে ঘরবন্দি তখন বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এটা অত্যান্ত দু:খজনক।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে বাংলাদেশে লকডাউন চলার মধ্যেও গত এপ্রিল মাসে ২১টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অপরাধীরা ধরাঁছোরার বাইরে থাকছেন। রবীন্দ্রবাবু গত এপ্রিল মাসে হিন্দু নির্যাতনের যে হিসেব দিয়েছেন তা হল-
গত ৪ এপ্রিল দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার নারায়ন সরকারের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে ঘর তুলেছে ভুমিদস্যু রায়হান মীর, ফারুক গংরা।

গত ৬ এপ্রিল, যশোর জেলার চৌগাছা থানার তিনটি গ্রামের পঞ্চাশটি হিন্দু পরিবারের ১০০ বিঘা জমি সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে জবরদখল করেছে ভুমিদস্যুর গডফাদার ইছাহাক আলী ও তার দুই পুত্র আকমল হোসেন ও আশরাফ আলী। ৭ এপ্রিল পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় অবস্থিত মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।।

৮ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনিতে  নবী মুহম্মদকে নিয়ে কটুক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে ইন্দ্রজিত হাজারী (৩৫) নামে এক স্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৯ এপ্রিল বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কুকি কালীদাস গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও শিব মন্দিরের লক্ষ্মী প্রতিমা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।।

১০ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জে জীবন মৃধার পৈতৃক সম্পত্তি ৮ বিঘা জমির ওপরে ঘের ও বসতবাড়ি উচ্ছেদের পায়তারা করে জাহিদুল হাওলাদার। ১১ এপ্রিল, ফরিদপুর জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার টিটুকান্দি গ্রামের অসিত কুমার সরকার স্থানীয় সন্ত্রাসী মো. শাহিন শেখকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেয়ায় গ্রামের ৩০টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে।

১২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের সুধাংশু দাশের বাড়ি দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুই লক্ষ টাকা মুল্যে গাছ কেটে নিয়ে যায় মো. মারফত আলী মুন্সি ও তার ছেলে।

১৩ এপ্রিল পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায় বিধবা বাসনা রানী দাশ ও তার ছেলে মেয়েকে পিটিয়ে জখম করে তাদের ভিটেমাটিসহ দখল করে সন্ত্রাসীরা।
১৫ এপ্রিল নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় পূজা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ধনেশ্বর রায়ের মেয়ে প্রতিমা রানীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়।

১৬ এপ্রিল বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার পশ্চিম সুজনকাঠি (মল্লিকপুর) গ্রামে একটি হিন্দু পরিবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হারুন মল্লিক ও তার পুত্ররা। এতে চারজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

১৭ এপ্রিল রাজশাহী জেলার নিমাই সরকারের মেয়ে অষ্টমী সরকার(১৪) গোলাম মোস্তফা ও তার সহযোগীদের নিয়মিত উত্ত্যক্তের যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করে। ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করায় পরিতোষ কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

১৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌলভী জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় জমায়েত নিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদের স্ট্যাটাস দেয়ায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের মধু কুন্ডু (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ৩০টি হিন্দু পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. এটিএম, জিয়া উদ্দিন, হাবিবুল্লাহ ও মুসা উদ্দিনের ৮০ সঙ্গী। এতে নারী-পুরুষসহ ২৫ জন গুরুতর জখম হয়।।

২২ এপ্রিল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পারঘাটী মন্দিরে জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর ও মারধর করেছে বখাটেরা।
২৩ এপ্রিল খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তয় সুব্রত মন্ডল (৩০)কে গলাকেটে হত্যা করে দুবৃত্তরা।

২৪ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার মংলায় এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা চালায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা, এতে গর্ভবতী মহিলাসহ পরিবারের ৭ জন জখম হয়।
২৫ এপ্রিল বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় গনকপাড়া গ্রামের জমিসংক্রান্ত বিরোধে রবিদাশের বাড়ি হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন ইউপির সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম।

২৬ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে দুইটি মন্দিরের হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। ২৭ এপ্রিল নোয়াখালী বেগমগঞ্জের নরেন্দ্র মোক্তার বাড়ির দীঘি দখলে নেয়ার জন্য দুইজনকে পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসী মো. বাবুল ও তার দুই সন্ত্রাসী পুত্র। ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার বিকাশ চন্দ্র ঘোষের ৫ বিঘা সম্পত্তি দখল নিতে হামলা চালায় সোলেমান গাজী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।

Related Articles

Back to top button
Close