fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু নির্যাতনের বিচার হয়নি, সর্বত্রই আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা: গোবিন্দ

‘কুমিল্লার মুরাদনগরের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়েছি। ঘটনার সময় ভয়ে হিন্দু নারীরা হাতের শাঁখা খুলে সিঁধুর মুছে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। শিশুরা আতঙ্কে বমি করতে শুরু করে।

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: ‘বাংলাদেশের সর্বত্রই হিন্দু সম্প্রদায় আতঙ্কে দিন যাপন করছে’- এমন অভিযোগ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার মৌলবাদীদের প্রশ্রয় দিয়ে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করে বাংলাদেশকে হিন্দু শূণ্য করে ইসলামী রাষ্ট্র করতে চায়। যে কারণে গত ১৫ বছরে হিন্দু নির্যাতনে জড়িত কারো শাস্তি হয়নি।’শুক্রবার ঢাকায় কুমিল্লায় হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিযোগ তিনি। এদিন রাজধানী ঢাকাসহ জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হিন্দু মহাজোট।

ঢাকার সমাবেশে হিন্দু গোবিন্দ বাবু বলেন, ‘কুমিল্লার মুরাদনগরের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়েছি। ঘটনার সময় ভয়ে হিন্দু নারীরা হাতের শাঁখা খুলে সিঁধুর মুছে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। শিশুরা আতঙ্কে বমি করতে শুরু করে। সন্ত্রাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের শ্লীলতাহানী করে। স্বর্ণালঙ্কারসহ বহু মূল্যবান জিনিস লুট করে নেয়। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করে উল্টো ভিকটিমদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে জেলে পাঠিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে একজন হিন্দু নির্যাতনকারীরও বিচার করে নাই শেখ হাসিনা সরকার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে লোকনাথ মন্দিরসহ ১১টি মন্দির পুড়ানোর ঘটনায় সারা পৃথিবী জুড়ে হৈ চৈ হলেও পুলিশ সে ঘটনায় সব দুস্কৃতিকারীদের ছেড়ে দিয়েছে। এসব কারণে একের পর এক হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে। সরকার মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে সমস্ত পাঠ্যপুস্তক ইসলামিকরণ করেছে। এত কিছুর পরও জাতীয় সংসদ নিরব ভূমিকা পালন করছে।

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের ক্ষতিপূরণ এবং দুষ্কৃতিকারীদের শাস্তি দাবি করে গোবিন্দ বাবু বলেন, ‘ফ্রান্সে নবীর অপমানের সূত্র ধরে ফেসবুকে কথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বহিস্কৃত হিন্দু পড়য়াদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।’

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দ্বীনবন্ধু রায়, সহ সভাপতি প্রদীপ পাল, অ্যাডভোকেট লাকি বাছার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় ভট্টাচার্য, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডবোকেট প্রতীভা বাকচী, প্রকাশনা সম্পাদক সাগরিকা মন্ডল, যুব বিষয়ক সম্পাদক কিশোর বর্মন, ঢাকা জেলা সভাপতি উজ্জ্বল মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক গোপাল পাল, হিন্দু মহিলা মহাজোটের সহ সভাপতি কাকলী নাগ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বিশ্বাস, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের সভাপতি সঞ্জয় শীল, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক তুলন পাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি ডি.কে সমির, নির্বাহী সভাপতি অখিল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিপুন পাল, হিন্দু যুব মহাজোটের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রদীপ শঙ্কর, গৌতম সরকার অপু, প্রশান্ত হালদার, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, সিনিয়র সহ সভাপতি বাবুল কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ হালদার, সহ প্রচার সম্পাদক সুমন কুমার রায়, কল্যাণ মন্ডল, রণি রাজবংশী প্রমূখ।

Related Articles

Back to top button
Close