fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা: রানা দাশগুপ্ত

গত ৭ মাসে হত্যা ১৭, ধর্ষণ ৩০, অপহরণ ২৩, মূর্তি ভাঙচুর ২৭, মন্দির-শ্মশান-সম্পত্তি দখল ২২৬

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: চলতি বছরে করোনা ভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ মহামারীতেও বাংলাদেশে হিন্দু ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস পূর্বেকার মতো অব্যাহত ছিল এবং এসব সন্ত্রাসের কোনও কোনটির সঙ্গে সন্ত্রাসীরা শাসক দল আওয়ামি লিগ ও বিরোধী বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়িত রয়েছে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বুধবার সংগঠনটির নিজস্ব সূত্র, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ ও শীর্ষ গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করোনাকালীন সময়ের হিন্দু নির্যাতনের চালচিত্র তুলে ধরে তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ৭ মাসে ১৭ জন সংখ্যালঘু হত্যার শিকার হয়েছে, হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে ১১ জনকে, ধর্ষণ-গণধর্ষণে নির্যাতনের শিকার ৩০ জন, শ্লীলতাহানির কারণে আত্মহত্যা করেছে ৩ জন।

এ ছাড়া অপহরণ করা হয়েছে ২৩ জনকে, ২৭টি প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি ও ৫টি শ্মশান-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের ঘটনা, বসতভিটি, জমিজমা, শ্মশান থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ২৬টি, বসতভিটি, জমিজমা, শ্মশান থেকে উচ্ছেদের অপপ্রয়াসের ঘটনা ৭৩টি, দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়েছে ৩৪ জনকে, গ্রামছাড়া করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ করা হয়েছে ৭ জনকে ও বসত-ভিটা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে।

এ চালচিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রদায়িক হিংসা বাংলাদেশে নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভয়ে ভীত করে উচ্ছেদের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা যাতে, দেশটি সংখ্যালঘুশূন্যে পরিণত হয়। পাকিস্তানি আমলের সাম্প্রদায়িাক মহলবিশেষের এ ঘূণ্য চক্রান্ত স্বাধীন বাংলাদেশেও অব্যাহত রয়েছে। এ চেষ্টা ফলপ্রসূ হলে দেশ ও জাতি গভীর সংকটে নিপতিত হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

বিষয়টি সুগভীর বিবেচনায় নিয়ে আনার জন্যে বিবৃতিতে সরকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বিগত নির্বাচনের পূর্বে সরকারী দল কর্তৃক প্রতিশ্রুত ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে হাসিনা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:ধর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসছে পুরো বাংলাদেশ, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকার শাহবাগ

বিবৃতিতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকবলিত স্থান পরিদর্শনে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ‘পূর্বেকার চেয়ে ইতিবাচক’ হিসেবে মন্তব্য করে সন্ত্রাস রোধে ও সন্ত্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিতে অর্থবহ ভূমিকা পালনের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

Related Articles

Back to top button
Close