fbpx
দেশহেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গে স্থাপিত হবে হিন্দুরাজ, দাবি প্রজ্ঞা ঠাকুরের

'‌শূদ্রদের শূদ্র বললে কেন তাঁদের খারাপ লাগে?‌'‌

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার গাড়ির ওপরে হামলার ঘটনায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পাগল বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি–ই জিতবে বলে দাবি প্রজ্ঞা ঠাকুরের। তিনি মন্তব্য করেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছেন, এটা পাকিস্তান নয়, ভারত। হিন্দুরা ভারতকে রক্ষা করতে তৈরি। তারা মমতাকে উপযুক্ত জবাব দেবে।’ রবিবার এক জনসভায় প্রজ্ঞা বলেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে জিতবে। সেই রাজ্যে হিন্দু রাজ কায়েম হবে।’ এর পরেই প্রজ্ঞা বলেন, ‘মমতা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, তাঁর শাসন শেষ হয়ে এসেছে। তিনি পাগল হয়ে গিয়েছেন।’

এর পরেই তিনি বলেন, শুদ্রদের বোধশক্তি কম। তাঁর কথায়, ‘একজন ক্ষত্রিয়কে ক্ষত্রিয় বললে সে রাগ করে না। একজন ব্রাহ্মণকে ব্রাহ্মণ বললে সে রাগ করে না। একজন বৈশ্যকে বৈশ্য বললে সে রাগ করে না। কিন্তু শুদ্রকে শুদ্র বললে তার খারাপ লাগে। এর কারণ কী। কারণ তারা বুঝতে পারে না।’

দেশ বিরোদীদের জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন লাগুরও দাবি তোলেন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। অর্থনৈতিক ক্ষমতার উপর ভিত্তি করেই দেশে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়া উচিত বলে মনে করেন ভোপালের সাংসদ। এতে প্রকৃত দুস্থরা উপকৃত হবেন বলে দাবি তাঁর। ক্ষত্রিয় মহিলাদের কর্তৃব্য বোঝাতে গিয়ে প্রজ্ঞা বলেন, ‘দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আরও বেশি করে শিশুর জন্মদান প্রয়োজন। এটাই ক্ষত্রিয় মহিলাদের কর্তৃব্য হওয়া প্রয়োজন।’ কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী কৃষকদের দেশ বিরোধী বলেো তোপ দাগেন বিজেপি সাংসদ। কৃষক আন্দোলন কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর হাতে চলে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। কোনও কিছু না বুঝেই কৃষকরা আন্দোলন করছেন বলে জানান প্রজ্ঞা। কৃষক আন্দোলনের শেষ পরিণতি শাহিনবাগের মত হবে বলে মত প্রজ্ঞার।

আরও পড়ুন: RSS প্রধান মোহন ভগবতের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি

২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তিনি কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিং-কে ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী গত মে মাসে তাঁকে তিরস্কার করেছিলেন। লোকসভায় বিতর্কের সময় প্রজ্ঞা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে বলেছিলেন দেশভক্ত। পরে তিনি ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু মোদী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনই প্রজ্ঞাকে ক্ষমা করতে পারবেন না। গত বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন জে পি নড্ডা। তাঁর কনভয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়। বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতার গাড়ি ভাঙচুর হয়। মমতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই হামলা পরিকল্পিত নয় তো? শুক্রবার নড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যপাল । তিনি বলেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজ্যপালের কথায়, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ-প্রশাসনের অনেককে আমি বার বার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছি। তা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েই চলেছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

 

Related Articles

Back to top button
Close