fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

‘শেখ হাসিনার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে খালেদা জিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে বাংলাদেশের হিন্দুরা’

যুগশঙ্খকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় চৌধুরী

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বাংলাদেশে গত বছরে ব্যাপক হিন্দু নির্যাতন হয়েছে। এসব নির্যাতনের ঘটনার একটিরও বিচার করতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার। এ কারণে বাংলাদেশের হিন্দুরা শেখ হাসিনার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী।

 

বুধবার যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দলের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান শাষকদল গত ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। তাদের এই সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা, জমি-বাড়ি দখল করা হয়েছে, হিন্দু নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অনেকে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভিটা-বাড়ি রেখে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব নির্যাতনের একটিরও বিচার করতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার। বরং অপরাধীদের পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে হিন্দুরা মানেই আওয়ামি লিগের ভোটব্যাংক’- এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নিপুন রায় বলেন, এক সময় হয়তো ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশের সব হিন্দুরা আওয়ামি লিগের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। এখন সব হিন্দুরা বিএনপি বা খালেদা জিয়ার প্রতি সমর্থন করেছে। বাংলাদেশে কখনো যদি ভোটের পরিবেশ ফেরে, রাতে যদি ভোট না হয়ে দিনে ভোট হয় অর্থ্যাৎ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হয় সব হিন্দু বিএনপিকে ভোট দেবে।

বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় বলেন, সুষ্ঠ ভোট হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে একটি আসনেও বিজয়ী হতে পারবেনা। বিএনপির একজন সাধারণ কর্মীর কাছে হেরে যাবেন তিনি। কারণ বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান অবৈধ সরকারের অপশাষণ থেকে মুক্তি চায়। বিগত বিএনপি সরকারের সময় ব্যাপক হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে- আওয়ামি লিগের এমন অভিযোগের বিষয়ে নিপুন রায় বলেন, আমাদের সরকারের সময় জনগন শান্তিতে থাকে। সঙ্গে হিন্দুরাও। ক্ষমতায় থাকার সময় দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গেই সে সব ঘটনার বিচার হয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি হয়েছে। আমারা যেভাবে হিন্দু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, বর্তমান সরকার যদি তার একভাগও করতো তাহলে এতো হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো না।

 

বিএনপিকে বলা হয় ভারতবিরোধী দল- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতবিরোধী নয়, বরং ভারতের প্রকৃত বন্ধু। কারণ ভারত আমাদের স্বাধীনতায় ভুমিকা রেখেছে। তারা আমাদের নিকট প্রতিবেশি বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা মনে করি প্রতিবেশির বিরাগভাজন হয়ে দেশের ও জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এবার দুর্গাপুজো নিয়ে বিএনপির ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় হিন্দুদের সুখে-দুখে পাশে রয়েছে। এবার দুর্গাপুজোতে সারাদেশের হিন্দুদের পাশে থাকতে বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্গাপুজো আসলেই ব্যাপকভাবে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্ডপে হামলার ঘটনা ঘটছে। বিএনপি এর প্রতিবাদ করে আসছে। পুজোর সময় হিন্দুদের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতা করে। ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের উদ্দেশ্যে নিপুন রায় বলেন, শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। এটা কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রও কিন্তু হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশের জনগন কি চায় সেটার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালি করতে ভারতের ভুমিকা রাখা দরকার।

নিজে হিন্দু ধর্মালম্বী হলেও নিজেকে সংখ্যালঘু নাগরিক হিসেবে মনে করেন না নিপুন রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি কখনো নিজেকে কখনো সংখ্যালঘু হিসেবে মনে করি না। আমি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের একজন মনে করি। বাংলাদেশের সকল হিন্দুদেরও নিজেকে সংখ্যালঘু মনে না করে সেটাই নিয়ে আমরা কাজ করছি। কারণ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলতে কিছু নেই। আমারা আমাদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে নিজের পরিচয় করে নেব। সাম্প্রদায়িক কিছু মানুষ আছে যারা হিন্দু বা অন্যান্যদের সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করে মানসিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা করে। আমরা সেটার বিরুদ্ধে গিয়ে হিন্দুদের বলছি, আপনারা নিজেকে সংখ্যালগু হিসেবে মনে করবেন না। কারণ আমরা যদি সংখ্যালঘু হতাম তাহলে আমাদের জন্য কোটা থাকতো। কিন্তু এখানে কোটা নেই মানে আমরা সংখ্যালঘু না। আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দল বিএনপিতে হিন্দুসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লোকজন আছে। আমার দল কথিত এই সব সংখ্যালঘুদের পাশে সব সময় থাকে। আমরা বাংলাদেশের নির্যাতিত মানুষের পাশে আছি। আমি বিএনপির নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের একটি কমিটিতে আছি। গত কয়েক বছরে অনেক হিন্দু নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমি সেসব নির্যাতিতদের পাশে আছি।

Related Articles

Back to top button
Close