fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

বেদখল মন্দির উদ্ধারে মরিয়া হিন্দুত্ববাদীরা!

রক্তিম দাশ, কলকাতা: মধ্যযুগে বাংলায় ২০টি মন্দির ভেঙে ফেলে বিদেশি আক্রমণকারীরা তৈরি করেছিল পৃথক ধর্মস্থান। বিস্ফোরক এই অভিযোগে সরব হল বাংলার হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। ফের এই হিন্দুমন্দিরগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী নেতারা।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যর দাবি, ‘এই ধর্মীয় স্থানগুলি একদা যে হিন্দু মন্দির ছিল তার ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে। তাই রামমন্দিরের মতো হিন্দুদের এই ধর্মীয় স্থানগুলো ফেরত  দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হোক।’

আরও পড়ুন:ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কেরল, ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৩, জোরকদমে চলছে উদ্ধারকার্য

দেবতনু বলেন, ‘ সম্প্রতি মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমিকে মুক্ত করার উদ্দেশে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ন্যাস তৈরি হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিদেশি আক্রমণকারীদের হাতে ধ্বংস হওয়া অগণিত হিন্দুর শ্রদ্ধাকেন্দ্র পুনরুদ্ধারের দাবিও করছি। এর মাধ্যমে এই বঙ্গের মাটির উপরে বাঙ্গালি হিন্দুর মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হিন্দু সংহতি  আন্দোলনে কর্মসূচি নিয়েছে।

মালদার আদিনাথের মন্দির, হুগলি জেলার ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম শৃঙ্খলাদেবীর মন্দির যা পান্ডুয়া এবং ত্রিবেণী সঙ্গমে অবস্থিত বিষ্ণুমন্দির পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেছি আমরা।

এই আন্দোলন শুধুমাত্র মন্দির মুক্ত করার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন বাঙ্গালি হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষার শেষ লড়াই।’

শুধু হিন্দুত্ববাদীরা নয়, শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভি অলইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডকে ২০১৮ সালে একটি চিঠিতে ন’টি স্থানের কথা বলেছিলেন, যা আগে হিন্দু মন্দির ছিল। এর মধ্যে অযোধ্যা, কাশী, মথুরার মতো বাংলার আদিনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ওই চিঠিতে এগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের দ্বারা প্রমাণিত।

বিষয়টি নিয়ে ঐতিহাসিক ড. অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘ এ নিয়ে  সেভাবে কোন গবেষণা এখনও হয়নি। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির বাংলাতেও শ’খানেকের কম হবে না। আর বর্তমানে অন্য ধর্মস্থান,অথচ এক সময় মন্দির ছিল এরকম সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ২০-র ওপর। মধ্যযুগে গোটা ভারতবর্ষেই হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস হয়।

এসবের বিস্তারিত বিবরণ মধ্যযুগের বিভিন্ন মুসলিম লেখকদের রচনায় পাওয়া যায়। সোমনাথ, কাশী বিশ্বনাথ, মথুরার কৃষ্ণ জন্মস্থানের মন্দিরের মত বিখ্যাত মন্দিরগুলি বারংবার ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসলীলার প্রাবল্য এতটাই ছিল যে, মোগল ও সুলতানি শাসনের কেন্দ্রস্থল দিল্লি-আগ্রার আশেপাশে কোনও প্রাচীন যুগের হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন মন্দির দেখা যায় না।’

 

বাংলাতেও বিট্রিশ আমলের আগে পর্যন্ত মন্দির ধবংসের  ইতিহাস পাওয়া যায় বলে মত অয়নবাবুর।

তিনি বলেন,‘ বঙ্গদেশে ১২০৩-০৪-এ ইক্তিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বক্তিয়ার খলজির আগমন থেকে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। তারপর রাজা গণেশের কয়েক বছরের শাসন ছাড়া দিল্লি সুলতানি, মুঘল, ইলিয়াস শাহি, হুসেন শাহি, মুর্শিদাবাদের নবাবদের হাত ধরে ব্রিটিশদের আগমনের আগে পর্যন্ত টানা ৫৫০ বছর ধরে বাংলায় বিদেশিদের শাসন চলে। এর ফলশ্রুতিতে গোটা পশ্চিমবঙ্গে একটি-দুটি ছাড়া প্রাচীন যুগের (খ্রিস্ট্রিয় ত্রয়োদশ শতকের আগে পর্যন্ত) কোন মন্দির দেখা যায় না। এতটাই ছিল মুসলিম শাসকদের হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ভয়াবহতা।’

অয়নবাবু আরও বলেন,‘ ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সুলেইমান করনানি-র সেনাপতি কালা পাহাড় বাংলা, ওড়িশার বহু প্রাচীন মন্দির ও দেব বিগ্রহ ধ্বংস করেন। পাল- সেন রাজাদের প্রায় ৪৫০ বছরের ওপর শাসনে বাংলায় বহু হিন্দু- বৌদ্ধ মন্দির নির্মিত হয়। তাঁদের লেখমালায় এগুলির উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু এদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব আর বর্তমানে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে কিছু প্রাচীন মন্দির ধ্বংস করে সেগুলির ওপরেই অন্য ধর্মস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। এরকম উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই একাধিক আছে। এর মধ্যে বহু স্থাপত্যেই দেওয়ালের গায়ে এখনও বহু হিন্দু দেব- দেবীর মূর্তি লক্ষ্য করা যায়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন,‘ এটা সত্যি বাংলায় মধ্যযুগে অগনিত হিন্দু মন্দিরকে ধ্বংস করেছে বিদেশি আক্রমণকারীরা। যাঁর প্রমাণও রয়েছে। জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য এগুলির পুনরুদ্ধার অবশ্যই দরকার। এগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া হিন্দুদের প্রাণের দাবি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close