fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস

দোয়েল দত্ত: দুর্গা, লক্ষ্মী, কালীপুজোর পর পালা এবার জগদ্ধাত্রী পুজোর৷ মা জগদ্ধাত্রী দুর্গারই অপর রূপ৷ সংস্কৃত, বাংলা ও অসমিয়াতে জগদ্ধাত্রী কথার অর্থ হল যিনি জগৎকে ধরে রাখেন৷ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বিখ্যাত হলেও কৃষ্ণনগর কিন্তু কোনও দিক থেকে পিছিয়ে থাকে না৷ এই পুজোকে ঘিরে প্রচলিত আছে নানা লোককথা৷

একবার নাকি কৃষ্ণনগর-এর রাজা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাব সিরাজদৌল্লাকে সঠিক সময়ে কর দিতে না পারায় তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে আটক করা হয়৷ যেদিন তাঁদের ছাড়া হয়েছিল সেই দিনটা ছিল বিজয়া দশমী৷ তিনি নৌকোয় চড়ে গঙ্গাবক্ষে কৃষ্ণনগর ফেরার সময়ে ঢাকের আওয়াজ শুনতে শুনতে অবসন্ন হয়ে পড়েন মা দুর্গার পুজো না করতে পেরে৷ সেদিনই রাত্রে ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি বালিকা তাঁকে বলছে কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে তাঁর পুজো করলেই মহারাজার মনোস্কামনা পূর্ণ হবে৷ পরে কুলপুরোহিতকে ডেকে সমস্ত ঘটনা শোনান মহারাজা৷ শুনে পুরোহিত বলেন ইনিই সাক্ষাৎ মা জগদ্ধাত্রী৷ তখন থেকেই কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে মহা ধুমধামে জগদ্ধাত্রী পুজো প্রচলিত হয়, যা আজও বজায় আছে সঙ্গে বেড়েছে বারোয়ারি পুজোর সংখ্যাও৷

কৃষ্ণনগর থেকে চন্দননগরে পুজোটিকে নিয়ে আসে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র বিশেষ বন্ধু ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী৷ খুব সম্ভবত ১৭৫০-এর পরে কোনও এক সময়ে এই বিষয়টা নিয়ে নানা মুনির নানা মত আছে৷ আরেক দলের মতে, সেই সময়ে চন্দননগরে লক্ষ্মীগঞ্জ নামে সদাব্যস্ত মস্ত বড় এক বাজার ছিল৷ সেখানে কৃষ্ণনগর থেকে আসা ব্যবসায়ীরা আটকে যায় প্রবল বৃষ্টিতে৷ দিনটি ছিল জগদ্ধাত্রী পুজোর৷ ফলে কী করবেন ভেবে যখন সকলে দিশেহারা তখন চন্দননগরেই পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন৷ এখনও চাউলপট্টিতে গেলে পুরনো দেবীমূর্তির দেখা পাওয়া যাবে৷

মা দুর্গার আরেক রূপ দেবী জগদ্ধাত্রী হলেও তাঁর গাত্রবর্ণ সোনালী সূর্যের ন্যায়, লক্ষ্মী-সরস্বতী, কার্তিক-গণেশ নন, তাঁর দুপাশে থাকেন জয়া-বিজয়া, মা ত্রিয়নয়না, চারটি হাত, একেক হাতে এক-একটি অস্ত্র, মায়ের বাহন সিংহ৷

তবে নিষ্ঠাভরে যতই চন্দননগর কৃষ্ণনগর-এ আজ পুজো হোক না কেন প্যান্ডেল, আলোতে কে কাকে টেক্কা দেবে ইদানীং যেন সেটাই মুখ্য হয়ে উঠছে৷

Related Articles

Back to top button
Close