fbpx
অন্যান্যগুরুত্বপূর্ণদেশলাইফস্টাইলহেডলাইন

করোনা প্রতিকারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে হোমিওপ্যাথি

ডা. শমিত ঘোষ: বর্তমানে দাঁড়িয়ে থাকা মহামারীতে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কাজ করে? এটা জানতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কিছু মুল বিষয় সম্পর্কে বলা দরকার। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর অসুস্থতার সময়ে যে লক্ষণ দেখা যায় তার ওপর। ওষুধের কিছু লক্ষণ আগে থেকে আমাদের জানা আছে। যা বিভিন্ন ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের সুস্থ পুরুষ ও মহিলাদের প্রয়োগ করা হয়। তারপর সেই সব মহিলা ও পুরুষদের যে সমস্ত লক্ষণ দেখা যায় তা লিপিবদ্ধ করা হয়।

দেখা গেছে, এই সমস্থ লক্ষণ যখন অন্য মানুষের শরীরে দেখা দিলে, তখন ওই ওষুধটিকে সেই ব্যক্তিকে হোমিওপ্যাথিক নিয়মানুসারে দিলে উক্ত অসুস্থ মানুষটি সুস্থ হন।

সেই একই নীতি অবলম্বন করে কোনও মহামারী বা অতি মহামারীতে বেশিরভাগ রোগির যে লক্ষণ আসে, সেই লক্ষণের ওষুধ অন্য আক্রান্ত রোগিকে দিলে, সেই রোগিও সুস্থ হয়ে ওঠেন , এবং সেই ওষুধ অন্য সুস্থও মানুষদের দিলে তা প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। বহু ক্ষেত্রে এটা দেখা গেছে।

সুতরাং মহামারীর ক্ষেত্রে বেশ কিছু রোগির লক্ষণ আমাদের জানা প্রয়োজন। হোমিওপ্যাথি আগেও অনেক সময় মহামারীতে প্রয়োগ করা হয়েছে, এবং তা অবিশ্বাস্যভাবে ভালো কাজ করেছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ের পরিসংখ্যান এখানে দিলাম।
The Medical Investigator, volume 10, ১৮৭৩ এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায়

হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পর যে মৃত্যুহার দেখা গেছে তা দেখা যাক:

মারণহার আলোপ্যাথি    মারণহার হোমিওপ্যাথি

১) সাধারণ অসুখ ১০শতাংশ ০৫শতাংশ
২) কলেরা ৫৪শতাংশ ২৭শতাংশ
৩) নিউমোনিয়া ১৪শতাংশ ০৬শতাংশ
৪) টাইফয়েড ২১শতাংশ ১০শতাংশ

ইউরোপের এজেন্সকালেন্স ক্লিনিক (Āgenskalns clinic) দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে যে: ১৮৫৪ সালে ” রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ান্স ” এর রিপোর্ট অনুসারে, লন্ডনে কলেরা রোগে মৃত্যুহার অ্যালোপ্যাথি – ৫৯.২ শতাংশ ও হোমিওপ্যাথি –১৬.৪ শতাংশ

১৮৭৮ সালে আমেরিকার নিউ ওরলিন্স শহরে ইয়লো ফিভার হয়, সমীক্ষা অনুযায়ী সেক্ষেত্রে মৃত্যুহার আলোপ্যাথি ওষুধের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে ৫. ৬ শতাংশ ।

১৯১৮ সালে পৃথিবী ব্যাপী মহামারী ইনফ্লুয়েঞ্জাতে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ মারা যান। দেখা গেছে এখনেও সুস্থতার বিচারে মডার্ন মেডিসিনে ৩০ শতাংশ এবং হোমিওপ্যাথিতে ৯৮ শতাংশ।

১৯২১ সাল ” আমেরিকান ইন্সিটিউট অব হোমিওপ্যাথি” প্রকাশিত খবর অনুযায়ী স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে মারণ হার হোমিওপ্যাথিক সিস্টেমে ৫.৬ শতাংশ ও অ্যালোপ্যাথিক সিস্টেমে ১৭ শতাংশ। প্রতিষেধকতার দিকে যদি আলোচনা আসলে বলা যেতে পারে ১৯০২ সালে আমেরিকার লোয়াতে স্মল পক্সের প্রতিষেধক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ভেরিওলিনাম দেওয়া হল ২৮০৬ জন রোগী ও ১৫ জন ডাক্তারকে, সাফল্য এল ৯৭ শতাংশ।
২০০৭ সালে কিউবাতে সরকার ২.৪ লক্ষ মানুষকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রতিষেধক হিসাবে দিয়েছিলেন লেপ্টস্পাইরসিস রোগের জন্য। ফল -আক্রান্ত রোগী কমে হল কিছুদিনের মধ্যে প্রতি ১ লাখে ৪ জন।

এবার দেখা যাক করোনা সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

ইরানে ডাক্তার রাজন শঙ্করন, ৩০ জন COVID-19 রোগির চিকিৎসা করেন। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এ দেখা গেল তাদের সুস্থতা দ্রুততার সঙ্গে হল। তিনি প্রতিষেধক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ১০০ জন মানুষ যারা covid রোগির সংস্পর্শে এসেছেন তাদের দেন, দেখা গেছে সেই সব মানুষের ৩-৪ সপ্তাহে করোনার কোনও উপসর্গই আসেনি।

রোমানিয়াতে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে, প্রতিষেধক হিসাবে। ইতালিতে ডাক্তার মাসিমো মাঙ্গিয়ালাভরি, ৮৪ জন COVID-19 রোগির উপর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগ করেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জন, রোগির মধ্যে সমস্ত COVID-19 এর লক্ষণ ৩-৪ দিনের মধ্যেই চলে যায় এবং বাকিরাও সুস্থ হচ্ছেন।

ভারতবর্ষ এও কাজ হচ্ছে। শ্রী ভেঙ্কটেস, পুনের পুলিশ কমিশনার নিজস্ব উদ্যোগে পুনে পুলিশ ফোর্সকে আরসেনিকাম এলবাম ৩০ খাইয়েছেন। ওনার বক্তব্য এতে এখনও পর্যন্ত পুলিশ ফোর্সের মধ্যে করনা উপসর্গ পাননি। ডাক্তার অ্যাই জ্যাক মাথাই প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, যিনি করোনা সংক্রান্ত ভারত সরকারের টাস্ক ফোর্স এর সদস্য প্রতিষেধক হিসাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার এর কথা বলেছেন।

ভারত সরকারে আয়ুষ মন্ত্রক একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে – বিজ্ঞানী, হোমিওপ্যাথিক ও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের নিয়ে এই কমিটি। CMR এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের করোনা প্রতিষেধক ও চিকিৎসা সম্পর্কে গবেষণা করছেন। আশা করা যেতে পারে, আমরা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ করোনার ক্ষেত্রে ব্যবহারে একটা দিশা পাব।

আয়ুষ মন্ত্রক ইতিমধ্যে তাদের সমস্ত চিকিৎসকদের অন লাইন ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে হোমিওপ্যাথিক ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করোনা মোকাবিলাতে কাজে লাগানো হচ্ছে।

পরিশেষে বলতে চাই করোনা মোকাবিলাতে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ইমুউনিটিতে জোর দিতে হবে। এর জন্য মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন। প্রোটিন ও ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করা, প্রতিদিন ব্যায়াম করা ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম করা। যেহেতু ভারত সরকারের টাস্ক ফোর্স গবেষণা করছে, তাই নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নিয়ে আলোচনা করা উচিৎ হবে না। তবে আমি অনুরোধ করব যাতে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেও সুযোগ দেওয়া হোক।

Related Articles

Back to top button
Close