fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানে বাড়ি ভেঙেছে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার পূর্ব মেদিনীপুরে দ্রুত সরকারি সহায়তা চায় ক্ষতিগ্রস্তরা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : আমফান ঝড়ঝঞ্ঝাতে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের গতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছিল বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে। সবার আগে যতটা দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করা হচ্ছে। প্রচুর ঘরবাড়ি ভেঙেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাঁদের পাশে আপাতত ত্রিপল দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রেড ক্রস সোসাইটির উদ্যোগেও বিভিন্ন ব্লকে ত্রিপল বিলি হচ্ছে।

জেলার ৩১৯৯ টি মৌজার মধ্যে ৩১০০ টি মৌজাই ক্ষতিগ্রস্থ। প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার কৃষিতে ক্ষতির পাশাপাশি জেলাতে মোট ৩ লক্ষ ৩০ হাজার বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ এখন গৃহহীন। অনেকের জোটেনি ত্রিপলটুকুও। বিভিন্ন স্কুলে, ক্লাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে তাঁদের। শুধুমাত্র মৎস্যজীবীদের ২৮৭০ টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। সেইসাথে আরও ৩৭০৬ টি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের সরকারি সহায়তা দ্রুত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি।

আরও পড়ুন: শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের, রিপোর্ট পেশ রেলমন্ত্রকে

মৎস্য দপ্তরের হিসেবে ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটির বেশি টাকার। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭২৭ হেক্টর মিস্টি জলাশয়ে ৩১ কোটি টাকা এবং ১৭৫৮ হেক্টর লোনা জলাশয়ে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলাতে চারাপোনা নষ্ট হয়েছে ১০৫ মিলিয়ন। এছাড়া ৪৩৯৭ টন মাছ মরেছে। টাকার অঙ্কে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৪৪০১ হেক্টর এলাকার জলাভূমি ক্ষতির মুখে। ভেঙেছে ১৭২ টি নৌকা। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় এলাকার ৪১ টি মৎস্যখটির সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে আমফানে। এইসব এলাকায় এ সময় শুকনো মাছ করার কাজ চলছিলো। মোট প্রায় ৭০ টন শুকামাছের দফারফা। মৎস্যজীবীদের মোট ১৯৭৩ কি হাঁড়ি এবং ৬৫৫ টি জাল আমফানে নষ্ট হয়েছে বলে মৎস্য দপ্তরের হিসেব।

জেলায় প্রায় ৪০ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি নষ্ট হয়েছে আমফানে। ছিঁড়েছে বৈদ্যুতিক তার। প্রায় দু হাজার ট্রান্সফর্মারের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুতের তারের উপর ঝড়ে গাছ পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার চারটি ডিভিশনের ২৮ টি সাপ্লাই অফিস জুড়েই জোরকদমে কাজ চলছে এলাকায় বিদ্যুতসংযোগ দ্রুত আনার।

Related Articles

Back to top button
Close