fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দ্রুত শান্তি ফেরাতে হবে হুগলিতে, গ্রামীণ শক্তির জাগরণ ঘটাতে হবে, নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে তেলিনিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে ফের নাম না করে বিজেপিকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন ‘রমজান মাসে একটা দল দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে বাংলায়। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না। ওদের কাজই হল দাঙ্গা করা। পুলিশকে বলেছি, যে দাঙ্গা করবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। কাউকে ছাড়া হবে না। অশান্তি করলেই গ্রেফতার।’ পাশাপাশি তিনি এদিন হুগলির জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘যাঁদের বাড়িঘর পোড়ানো বা জ্বালানো হয়েছে, তাঁদের সাহায্য করুন। তেলেনিপাড়ায় যে গন্ডগোল হয়েছে, সেখানে কাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করে পাঠাবেন। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর জন্য একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করুন।’

লকডাউনের মধ্যে মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে গরিব-সচ্ছল নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত শ্রেণির রেশন গ্রাহকদের হাতে বিনামূল্যে মাসে ৫ কেজি করে চাল তুলে দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। রেশন দুর্নীতি নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কড়া বার্তা, কেউ যেন অনাহারে না থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। চাল-গম লুকিয়ে রাখবেন না, রেশন ডিলারদের বার্তা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এদিন চতুর্থ দফার লকডাউনের গাইডলাইন নিয়েও আলোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এদিন বলেছেন, ‘আমরা চাইছি আরও দোকানপাট খুলুক। করোনা ভাইরাস থাকবে। কিন্তু তার মধ্যেই গ্রামীণ শক্তির জাগরণ ঘটাতে হবে।’ তিনি বলেন ‘রাজ্যের গ্রামগুলিতে সবকিছুই আছে। মাছ, গরু, মাঠ, পুকুর সবকিছু। সেগুলিকে কাজে লাগান। বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বিশ্রামের পর কাজে লাগান। আমরা এর ফলে অনেক শ্রমিক পেয়ে যাব। যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। ফলে অতিরিক্ত না খেটেই বেশি লোক লাগিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।’ এর পাশাপাশি, বাংলা আবাস যোজনা, বাংলা সড়ক যোজনায় কাজ আরও বাড়াবার নির্দেশ দেন তিনি। গ্রামগঞ্জে রাস্তাঘাটের হালও খারাপ হয়ে পড়েছে সংস্কারের অভাবে। সেই কাজগুলি এবার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সামনেই পুজো, তার আগেই রাস্তার কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে আরও কর্মীকে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন: অবশেষে ৩৮ দিন পর দেশে ফিরল বাংলাদেশ আটকে থাকা ভারতীয় ট্রাক চালকরা

পাশাপাশি, তিনি জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের বা বাইরে থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের সকলকেই পরীক্ষা করবে রাজ্য। তারপরে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে তবেই বাড়ির বাইরে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এদিন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এর আগে ১০০ দিনের কাজ, গ্রামীণ অর্থনীতির দশা ফেরানো নিয়ে জেলাশাসক, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর সেই বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রীও।

এদিন অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস এত সহজে যাবে না। তাকে নিয়েই চলতে হবে। ইতিমধ্যেই অনেক হাসপাতাল খোলা হয়েছে। ফলে ভয়ের কোনও কারণ নেই।’ তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই একাধিক দোকান খোলা হয়েছে। শীঘ্রই আরও দোকান খোলা হবে। ফলে চিন্তার কিছু নেই। একটু ধৈর্য্য রাখতে হবে। তিনি রেড জোনকে তিন ভাগে ভাগ করার কথা জানান। সেখানে কী পরিষেবা পাওয়া যাবে সেটাও জানান। তিনি বলেন, ‘লকডাউন উঠে গেলেও আমাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। মানতে হবে কিছু নিয়মবিধিও। মাস্ককে আমাদের জীবনের অঙ্গ করে নিতে হবে। এভাবে সাবধান হলে সমস্যা হবে না।’

Related Articles

Back to top button
Close