fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠল হাসপাতালের বিরুদ্ধে

অমিতাভ মণ্ডল, পাথরপ্রতিমা:‌ কার্যত বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয় চার দিনের ওই শিশুর। পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার ভোরে পাথরপ্রতিমা শ্রী নারায়ণ পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেহেরপুরের বাসিন্দা নাজিরা বেগম স্থানীয় সিডিসি সেন্টারে শিশুটি প্রসব করেন। জন্মের পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।

মঙ্গলবার তাকে রেফার করা হয় কলকাতার হাসপাতালে। দিনভর কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ঘুরে অসুস্থ শিশুটিকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করে তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোন জায়গায় ভর্তি করানো যায় নি। অগত্যা বৃহস্পতিবার সকাল বাড়ি ফিরে আসতে হয় ওই অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে। কিন্তু শিশুর অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে একাধিক জায়গা থেকে সংবাদ পেয়ে আবার ওই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য তৎপরতা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন প্রয়োগে তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবডি, দাবি সংস্থার

বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটিকে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু শিশুটি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ মারা যায় শিশুটি। এই মৃত্যুকে ঘিরে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিশুটিকে কেন ভর্তি করানো গেল না হাসপাতলে। এত সরকারি পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও জন্মের চারদিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হলো এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে আশা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ও প্রসূতি মাকে প্রসবের জন্য সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে কেন স্থানীয় সিডিসি সেন্টারে নিয়ে গেল তা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

পাথরপ্রতিমার শ্রীনারায়নপুর পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেহেরপুরের বাসিন্দা প্রসূতি নাজিরা বিবি। শনিবার সকালে স্বাস্থ্যকর্মী মানসী পাত্র মাইতি প্রসবের জন্য নাজিরাকে নিয়ে যান স্থানীয় সিডিসি সেন্টারে। মঙ্গলবার সকালে সন্তান প্রসব করেন প্রসূতি মা। জন্মের পর থেকে শিশুটির শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা যায়। মঙ্গলবার তড়িঘড়ি ওই শিশুটিকে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর কাকদ্বীপ মহকুমার হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয় কলকাতার যে কোন হাসপাতালে। ঐদিন পরিবারের লোকজনেরা ওই শিশুটিকে নিয়ে যান কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। এসএসকেএম তাদের রেফার করে এনআরএস হাসপাতাল। এন আর এস হাসপাতাল তাদের পাঠায় আবার এসএসকেএম হাসপাতালে। এসএসকেএম হাসপাতাল আবার তাদের পাঠান ফুলবাগানের এক হাসপাতালে। সেখানেও শিশুটিকে ভর্তি করানো যায়নি।

দিনরাত অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতালের দরজায় ঘুরে ঘুরে শিশুটিকে ভর্তি করতে না পেরে পরিবারের লোক জনেরা বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে ফিরে আসে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হতে থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের লোক জনেরা শিশুটিকে নিয়ে যান ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি করা হয় শিশুটির। ততক্ষণে শিশুটির অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যায় শিশুটি। শিশুটির বাবা মসুরুদ্দিন মীর জানান, আমার স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে একটা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হল। এরপর দিনরাত একের পর এক হাসপাতালে দরজায় ঘুরে ঘুরে কোন হাসপাতাল আমার ওই অসুস্থ শিশুটিকে ভর্তি নিল না। আছে আছে আমার শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যায় আমার শিশু। সরকারি হাসপাতালে সমস্ত রকম পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও একরকম বিনা চিকিৎসায় মারা গেল আমার শিশু। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাথরপ্রতিমা ব্লক মেডিক্যাল অফিসার গৌতম কুমার নস্কর এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

 

Related Articles

Back to top button
Close