fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় সিভিক ভলেন্টিয়ার স্বামীর হাতে খুন গৃহবধূ

মিল্টন পাল,মালদা: বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে সন্দেহ তার ওপর টাকার চাপ। আর দাবির টাকা আনতে অস্বীকার করলেই স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ। এরপর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার মালদার মানিকচক থানার নারায়নপুর গ্রামে।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তর পরিবারের সদস্যরা পলাতক। মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,মৃত গৃহবধুর নাম মৌসুমি বিবি(২২)। বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মশালদহ গ্রামপঞ্চায়েতের মেহেরাপুর গ্রামে। স্বামী শেখ আব্দুল কাদির। পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ারের কর্মী। বর্তমানে সে মানিকচক থানার কর্মরত। মৃতের পরিবারের সদস্য আনারুল হক জানান, ২বছর আগে সামাজিক নিয়ম মেনে মানিকচক থানার নারায়ণ পুরের বাসিন্দা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিয়ে হয়।তাদের ১০মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শেখ কাদির ও তার পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে।আর সেই দাবির টাকা নিয়ে আসতে অস্বীকার করলেই মেয়েকে বেধড়ক মারধর করতো। এই অশান্তির জেরে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে দুই পরিবারকে সামনাসামনি দেখে সমস্যার সমাধান করেন।এরপরই মৌসুমিকে তার স্বামী তার বাড়িতে নিয়ে যায়।এরপর কয়েক মাস ঠিকঠাকভাবে সংসার করলেও ফের স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে মেয়েকে।আর ফ্রি টাকা না নিয়ে আসার কারণেই মেয়েকে বাড়িতে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে।স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মৃতের পরিবারের সদস্যরা।তড়িঘড়ি মেয়েকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিয়ে দিয়েছে।অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মৃতের পরিবারের সদস্যরা মানিকচক থানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
যদিও সিভিক ভলেন্টিয়ারের দাবি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তার স্ত্রী। কিন্তু গৃহবধূর বাপের বাড়ির অভিযোগ শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে গৃহবধূকে। সিভিক ভলেন্টিয়ার কাদেরের দাবি শনিবা সকাল নটা নাগাদ কর্তব্যরত অবস্থায় তিনি খবর পান তার স্ত্রী মৌসুমী নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখেছে। খবর পেয়ে বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার স্ত্রীকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। ভলেন্টিয়ার কাদের অবশ্য তার বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগ কে অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এর আগে সামান্য পারিবারিক কলহে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল তার স্ত্রী মৌসুমী। তার দাবি আত্মহত্যা করেছে তার স্ত্রী।
ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তে আসেন মানিকচকের বিডিও সুরজিৎ পন্ডিত। তিনি বলেন,ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ।

 

Related Articles

Back to top button
Close