fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু আসানসোলে, গ্রেফতার শাশুড়ি

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু কে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো সালানপুর থানার আছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের  শ্রী কৃষ্ণপল্লীতে। বুধবার রাতে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃতা বছর ২৪ এর শম্পা ঘটক। পুলিশ প্রথমে বুধবার রাতে মৃতার বাবার বাড়ির অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে চাপে পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মৃতার বাবা বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগ নেয়। ততক্ষণে মৃতার স্বামী ও কাকি শাশুড়ি পালিয়ে যায়। পুলিশ মৃতার শাশুড়িকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শম্পা ঘটকের বাপের বাড়ি চিত্তরঞ্জনে। তিন বছর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি সালানপুর থানার আছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীকৃষ্ণ পল্লী সৌমেন ঘটকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের একটি দেড় বছরের সন্তানও রয়েছে। বুধবার রাতে শ্রী কৃষ্ণপল্লীর শ্বশুরবাড়িতে গলায় দড়ি দেওয়া শম্পার ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করে রূপনারায়নপুর ফাঁড়ির পুলিশ। ফাঁড়ি থেকে রাতেই খবর দেওয়া হয় মৃতার বাবাকে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাবা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। পুলিশ বিশ্বনাথবাবুকে বলে, তার মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতি হয়েছে। তারা দেহ উদ্ধার করে এনেছে। যদিও তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেন, মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে গলা টিপে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে।

এই ঘটনায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আরো বলেন, মেয়ের বিয়ের সময় নগদ টাকা সহ পনের সবকিছু দিয়েছিলাম । কিন্তু বিয়ের ৬মাস পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে পন বাবদ আরো টাকা আনার জন্য মেয়ের উপর অত্যাচার করতো তার স্বামী ও শাশুড়ি । তার দাবি, পনের জন্যেই মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেরে ফেলেছে। বুধবার রাতে রূপনারায়ানপুর ফাঁড়ি থেকে আমার কাছে ফোন আসে যে, মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যা করেছে। আমি রূপনারায়ানপুর ফাঁড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে একদিকে। আর পুলিশ মেয়ের স্বামী ও তার মাকে আইসক্রিম খাওয়াছে। আমি সেই সময় পুলিশকে বারবার বলি, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। ওকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ আমার কথা শুনতে চাইনি। রাতে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের ফাঁড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হয়। এদিন সকালে সালানপুর থানায় অভিযোগ করতে এলে পুলিশ আমাদের বলে অভিযোগ করে কি লাভ? সব দেখে মনে হচ্ছে, শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কাছে পুলিশ বিক্রি হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে পুলিশ বিশ্বনাথবাবুর লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়। তিনি মেয়ের স্বামী সৌমেন ঘটক, শাশুড়ি প্রণতি ঘটক, ও কাকি শাশুড়ি বন্দনা ঘটকের নামে লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ করার পর পুলিশ মৃতদেহটি আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় ময়নাতদন্তের জন্য।
বিশ্বনাথবাবুর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শাশুড়ি প্রণতি ঘটকে গ্রেপ্তার করে। তবে সুযোগ বুঝে স্বামী সৌমেন ঘটক ও কাকি শাশুড়ি বন্দনা ঘটক পালিয়ে যায়।

সালানপুর থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close