fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

কতটা সৎ উমর খালিদ…..

আর কে সিনহা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসাত্মক মামলায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সদস্য উমর খালিদকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। টানা ১১ ঘণ্টা জেরার পর, উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়।

উমর খালিদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে থাকাকালীন রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাতে দিল্লিবাসীকে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। আসলে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরোধী এবং সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলার পরই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। এরপর যা কিছু হয়েছিল সেই সম্পর্কে দেশ ও দুনিয়া ভালোভাবেই অবগত। ওই দাঙ্গায় কমপক্ষে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০০ জন আহত হয়েছিলেন। মনে রাখার বিষয় হল, ২০১৬ সালে জেএনইউ-তে দেশ বিরোধী স্লোগান দিয়েও শিরোনামে এসেছিল এই উমর খালিদ। ওই মামলাতেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কানহাইয়া কুমারের সঙ্গে দেশদ্রোহিতা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছিল উমর খালিদ। যদিও অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি।

খালিদের বিরুদ্ধে বারবার এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশ বিরোধী এবং সন্ত্রাসী আফজল গুরুর সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের হয়েছিল। জেএনইউ ক্যাম্পাসে হিন্দু দেবদেবীদের আপত্তিকর ছবি লাগিয়ে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে খালিদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে ছত্তিশগঢ়ের দান্তেওয়ারায় সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃত্যুর পর আনন্দ উদযাপন করছিল উমর খালিদ।

যেন বাঁচতে না পারে কোনও দাঙ্গাবাজ

১৯৮৪ সালের পর ২০২০ সালেই ভয়াবহ দাঙ্গার সাক্ষী থেকেছে দিল্লি। দাঙ্গায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দিল্লি হিংসায় যাঁরা উস্কানি দিয়েছে, অথবা অংশ নিয়েছে তাঁদের স্থান শুধুমাত্র জেল। তাঁদের যেন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হয়, এটাই চাইছে দেশের জনগণ। দাঙ্গার কারণে দেশের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে অকারণে দাগ লেগেছে। দিল্লি হিংসায় জড়িতরা যে কোনও সম্প্রদায় অথবা দলের সঙ্গে যুক্ত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই মামলায় হিন্দু অথবা মুসলমান দেখা উচিত নয় পুলিশের। দাঙ্গা তো দাঙ্গাই হয়। সবাই জানেন পরিকল্পনামাফিক দিল্লিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দাঙ্গা তো আচমকা হয় না।

আরও পড়ুন:বাগবাজার গঙ্গার ঘাটে শহিদ বিজেপি কর্মীদের স্মৃতিতে তর্পণ অনুষ্ঠান বিজেপির

এটা তো ঠিক, খালিদের বিরুদ্ধে যদি দিল্লি হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। এরইমধ্যে ছদ্মবেশী সেকুলারবাদীরা ময়দানে নেমে পড়েছে। তাঁরা খালিদের পক্ষেই প্রচার করছে। তাঁদের মতে, খালিদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, জামিয়া সমন্বয় সমিতি-র সদস্য সফুরা জরগরের জামিন আর্জি আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পরও এঁরা সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-তে এম ফিল-এর ছাত্রী সফুরা গর্ভবতী ছিলেন। সফুরার বিরুদ্ধে দিল্লি হিংসায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া মহিলাকে কী জেলে পাঠানো উচিত নয়? শুধুমাত্র গর্ভবতী হওয়ার কারণেই কী গুরুতর অপরাধ করা সত্ত্বেও কোনও মহিলা জেল যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে? এই প্রশ্ন অত্যন্ত জরুরি ও সমীচীন। যদিও, সফুরা এখন তো জামিন পেয়ে গিয়েছে। যদি কেউ একবার আইনের ফাঁসে ফেঁসে যায়, তাহলে সে মাথা নত করে ক্ষমা চায়। ততক্ষনে অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যায়। এরপর দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষও তাঁকে বাঁচাতে পারবে না। উমর খালিদের গ্রেফতারির বিরোধিতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সেকুলারবাদীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হচ্ছে। বলছে উমর খালিকে গ্রেফতার করা একেবারে ভুল। এরাই সফুরার সময় বলছিল, সফুরাকে জামিন দেওয়া উচিত, যেহেতু সে গর্ভবতী।

আরও পড়ুন:দু’দিনের কর্মসূচি নিয়ে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের দেশে বাক স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে, তাই আপনি চাইলে যা ইচ্ছা বলতেই পারেন। দিল্লির একটি আদালত সফুরার জামিন আর্জি খারিজ করে বলেছিল, আপনি যখন আগুন নিয়ে খেলছেন, তখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য হাওয়াকে দোষ দিতে পারবেন না। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা এটাও বলেছিলেন যে, অভিযুক্ত সফুরা হিংসায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলেও, দায়িত্বজ্ঞানহীন দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। আগেই যেমনটা বলা হয়েছে, সফুরা জামিন পেয়েছেন। উমর খালিদের ক্ষেত্রে আদালত কী রায় দেয় সে দিকেই আপাতত নজর রয়েছে। কিন্তু, ইটা কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয় উমর খালিদ এবং সফুরার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য দাঙ্গা ভয়ানক রূপ নিয়েছিল। এখন এই মামলা আদালতের বিচারাধীন। আদালত তো তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দেবে।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close