fbpx
দেশব্লগহেডলাইন

বিহারের জাতীয় সড়ক কীভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব

আর কে সিনহা: এখন থেকে বিগত তিন বছরের তুলনায়, দেশের জনগণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা-যাওয়া অনেক বেশি বাড়িয়েছেন। কেরিয়ারের শ্রীবৃদ্ধির জন্য অথবা কর্মসূত্রে এক শহর থেকে অন্য শহরে বসবাস শুরু করেছে জনগণ। এর ফলে জাতীয় সড়কে যাতায়াত অনেকটাই বেড়েছে। যাঁরা আকাশপথে অথবা ট্রেন পথে নিজেদের গন্তব্যে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাঁরা সড়কপথকেই বেছে নেন। সড়কপথে পণ্য পরিবহণও সহজেই হয়ে যায়। দেশে সবচেয়ে বড় হাইওয়ে নেটওয়ার্ক উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশে ৮,৪৮৩ কিলোমিটার লম্বা হাইওয়ে রয়েছে। এরপরই বিহার। বিহারে জাতীয় সড়ক ৪,৯৬৭ কিলোমিটার লম্বা। অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও হাইওয়ে দীর্ঘতম। ভারতে এই মুহূর্তে ১ লক্ষ কিলোমিটার লম্বা জাতীয় সড়কের জাল বিস্তৃত।

জাতীয় সড়কের কল্যাণ হবেই
এরই মধ্যে, বিহারের জন্য এই সুখবর এসেছে যে, বিহারে ১৪ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সড়ক প্রকল্পের শিল্যানাস হয়েছে। এর ফলে বিহারে জাতীয় সড়কের বিস্তার হবে। জাতি সড়ক প্রকল্পে তিনটি বড় সেতু এবং জাতীয় সড়ককে চারটি লেন তথা ৬টি লেনে আপগ্রেড করা হবে। বিহারে এখন সমস্ত নদীর উপর সেতু তো অবশ্যই হবে এবং সমস্ত প্রধান জাতীয় সড়ক প্রশস্ত করা হবে। এই মুহূর্তে বহারে জাতীয় সড়কের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। পূর্ব বিহারকে পশ্চিম বিহারের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য চারটি লেন বিশিষ্ট পাঁচটি প্রকল্প এবং উত্তর বিহারকে দক্ষিণ বিহারের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য ছ’টি প্রকল্পের কাজ চলছে। নিঃসন্দেহে, বিহারের যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বড় বড় নদীগুলির প্রবাহ ও দ্রুত প্রবাহ। এজন্যই বিহারের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ ঘোষণায়, সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। গঙ্গা নদীর উপর ১৭টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অধিকাংশ সমাপ্ত হওয়ার পথে। একইভাবে গন্ডক ও কোসি নদীর উপরও সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাটনা রিং রড এবং পাটনায় গঙ্গা নদীতে মহাত্মা গান্ধী সেতুর সমান্তকরণ এবং বিক্রমশীলা সেতুর সমান্তকরণ নির্মাণে পাটনা এবং ভাগলপুরের মধ্যে যোগাযোগে উন্নতি হবে।

সুরক্ষিত হোক জাতীয় সড়ক
একটি বিষয় বুঝে যাওয়া উচিত, হাইওয়ে নির্মাণের পরে, বিহার সরকারকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যে হাইওয়েতে ভ্রমণকারীরা যেন কোনও কারণে দুর্ঘটনার শিকার না হন। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের উপর থেকে যাওয়া হাইওয়েগুলি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত। এই জাতীয় সড়কগুলিতে দুর্ঘটনা থেকে হত্যা এবং লুটপাটের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান দেখলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের হাইওয়ে কতটা অসুরক্ষিত। এরপরই রয়েছে ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ। হাইওয়েতে হওয়া অপরাধ পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তাহলে কীভাবে এই অপরাধ কমানো সম্ভব? অপরাধীদের মনে পুলিশের ভয় থাকতে হবে। অপরাধ করার আগে তারা যেন দশবার ভাবে। একইভাবে নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালালে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া উচিত। কঠোর পদক্ষেপ না নিলে হাইওয়ে কখনও সুরক্ষিত হবেই না।

আরও পড়ুন:হাইকোর্টে শূন্যপদে নিয়োগে ট্রান্সজেন্ডারদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া নিয়ে মামলা হাইকোর্টে

পরিকল্পনা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতেও চলতি বছরের শেষের মধ্যে বিহারের সমস্ত হাইওয়েতে যেন গাড়ি দৌড়তে পারে। এজন্য পাটনা, মুজফফরপুর, দারভাঙ্গা, গয়া, ভাগলপুর, মুঙ্গের, বিহার, শরিফ, আরা, সমস্তিপুর, মধুবনি, ছাপড়া, সিওয়ান, গোপালগঞ্জ শহরে বাইপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সড়ক নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি প্রশস্তিকরণের জন্য ব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণের ব্যয়ও সরকার বহন করছে। হাইওয়ের অর্থ হল গাড়ি না থামিয়েই যাতে গন্তব্যে পৌঁছনো যেতে পারে। কিন্তু যানবাহনের সংখ্যা যদি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং অপরাধীদের স্বর্গে পরিণত হয় তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যেভাবেই হোক দেশের সমস্ত হাইওয়েকে সুরক্ষিত করতেই হবে। ২০১৪ সালের তুলনায় এখন জাতীয় সড়ক তৈরির গতি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। খরচও এখন আগের তুলনায় ৫ গুন্ বেশি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১১০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করার ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যে ১৯লক্ষ কোটি টাকা শুধুমাত্র জাতীয় সড়কের উন্নয়নের জন্যই নির্ধারিত।
কোনও দেশের প্রগতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হলে সেই দেশের হাইওয়ে অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:রাক্ষসের প্রশাসনকে দূর করে দিয়ে রামের প্রশাসনকে উপহার দিন: ভারতী ঘোষ

আমেরিকায় একটি কথা প্রচলিত রয়েছে,’আমেরিকা একটি মহান দেশ, এজন্য আমেরিকার সড়ক এত সুন্দর নয়। বরং এটা বলা উচিত সড়ক সুন্দর হওয়ার কারণেই আমেরিকা মহান।’ আমাদের দেশে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ অটলবিহারী বাজপেয়ীর দূরদৃষ্টির কারণেই শুরু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই দেশের চারটি বড় শহর দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাইকে চার থেকে ছয় লেন বিশিষ্ট জাতীয় সড়কের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস করেছিলেন। কাজ চালু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে এবং ২০১২ সালে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। স্বর্ণ চতুর্ভুজ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত জাতীয় সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৫,৮৪৬ কিলোমিটার। খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন টাকা। অটলজির প্রকল্পেই এখন গতি প্রদান করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এটা অত্যন্ত সৌভাগ্যের যে নীতিন গড়কড়ির মতো উৎসাহী এবং কর্মঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সড়ক এবং পরিবহন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। মন্ত্রকের ভাবমূর্তি পাল্টে দিয়েছেন তিনি। ফলাফল দেওয়ার মতো মন্ত্রী তিনি। দেশবাসীর আশা, উনি হাইওয়ে সম্প্রসারণের কাজ আরও দ্রুত চালিয়ে যাবেন।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close