fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার কারণে অসুস্থ, মহিলা ও রাজনৈতিক জেলবন্দিদের দ্রুত জামিনের দাবি মানবাধিকার সংগঠনের

মোকতার হোসেন মন্ডল: মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যে অসুস্থ,মহিলা ও রাজনৈতিক বন্দিদের দ্রুত জামিন দেওয়ার দাবি জানালো অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস নামে জনপ্রিয় একটি মানবাধিকার সংগঠন। এপিডিআর-এর একাধিক নেতা কয়েক মাস থেকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।

ওই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রঞ্জিত শূর এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, ‘সারাদেশে সুপরিচিত জেলবন্দি সমাজকর্মীদের অনেকেই করোনা আক্রান্ত। ভারাভারা রাও, অখিল গগৈ, শার্জিল ইমাম, অমিতাভ বাগচি এদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা আমরা জেনেছি। সেই সূত্রে খবরে আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জেলবন্দিদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু কী অবস্থা এরাজ্যের জেলবন্দিদের? জেলবন্দি ও তাদের পরিবারসূত্র জানা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জেলখানাগুলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বড় বড় জেলগুলির প্রায় সবকটিতেই করোনা ছড়িয়েছে। কোথায়ও জেলবন্দি কোথায়ও জেলকর্মী করোনা আক্রান্ত।”
রঞ্জিত বাবু সোশ্যাল সাইট ও একাধিক সভায় বারবার দাবি করছেন, এই করোনার পরিস্থিতিতে বন্দিদের জামিন দিয়ে জেলের জনচাপ কমাতে হবে।

আরও পড়ুন:রাজ্যের মানুষ এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লকডাউন করে দেবে, তার সময় এসে গেছে: রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়

বিবৃতিতে এই মানবাধিকার কর্মী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সূ্ত্র প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জেলে জেলবন্দি ও জেলকর্মী মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন করোনা আক্রান্ত। একজন বন্দি করোনায় মারাও গেছেন বলে খবর। অথচ কারা দফতর নির্বিকার। টেস্ট ও ট্রেস কথাগুলো তারা শুনেছেন বলেও মনে হয়না। খবর চাপতেই তারা অনেক বেশি তৎপর। বারবার দাবি করা সত্ত্বেও জেলবন্দি বা জেলকর্মীদের টেস্ট করানো হচ্ছে না। কারামন্ত্রীকে এপিডিআর লিখিতভাবেও অনুরোধ জানিয়েছে সব বন্দির টেস্টের জন্য। লাভ হয়নি। ফলত সমস্ত জেলবন্দি ও জেলকর্মীই বিপদের মুখে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই করোনা হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারক। জেল বন্দিদের রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা খুবই কম। কারণ জেলের ভীড়, জেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুষম খাবারের অভাব, চিকিৎসাহীনতা, বদ্ধজীবন এবং মানসিকপীড়ন। এজন্যই  সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল দ্রুত জেলে ভীড় কমাতে। বলেছিল বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে সাময়িক জামিন ও প্যারোল দিয়ে বন্দি সংখ্যা কমাতে।”

এপিডিআর নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলও একই পরামর্শ দিয়েছে। বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বন্দিদের অগ্রাধিকার দিতেও বলেছে রাস্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিল।  পশ্চিমবঙ্গ সরকার অল্পকিছু বন্দিকে জামিন ও প্যারোল দিয়ে সেসব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। রেগুলার জামিনকে বিশেষ বন্দিমুক্তি হিসাবে দেখিয়ে আদালতকে ঠকিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বয়স্ক, অসুস্থ ও মহিলা বন্দীদের ছাড়ার জন্য উদ্যোগ নেবে সরকার। কিন্তু সেসব আসলে কেবলই গ্যালারি শো ছিল। তাই আজও এরাজ্যের জেলে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বন্দি সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। ফলে এদিকে ভীড় অন্যদিকে টেস্টহীনতা।  অথচ নতুন বন্দি রোজই ঢুকছে। কর্মীরা, সাপ্লায়াররা বাইরে থেকে জেলে ঢুকছেন। ফলে বন্দিরা চরম আশঙ্কায়। প্রতিদিনই জেলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ অধিকাংশ জেলেই মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না। চাইলে কর্তাদের হুমকি, বদলি। তাই অবিলম্বে জেলবন্দির সংখ্যা অনেক অনেক কমানো দরকার। রং না দেখে বয়স্ক, অসুস্থ, মহিলা ও রাজনৈতিক  বন্দিদের দ্রুত জামিন, প্যারোল বা মুক্তি দেওয়া হোক। সমস্ত জেলবন্দি এবং জেল কর্মীর করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। এটাই সময়ের দাবি।”,

আরও পড়ুন:কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে ‘সোজা বাংলায় বলছি’-তে ফের ভার্চুয়াল ঝড় ডেরেকের

রঞ্জিত শূরের মন্তব্য, ‘অসম রাজ্যে বিভিন্ন জেলে করোনা ছড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি গৌহাটি হাইকোর্ট সে রাজ্যের সমস্ত জেলবন্দির করোনা টেস্টের নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপভাবে সমস্ত জেলবন্দি ও জেলকর্মীর করোনা টেস্ট করানো খুব দরকার।’
রাজনৈতিক কর্মী সহ দীর্ঘদিন জেলে আছে এমন বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

Related Articles

Back to top button
Close