fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হুমায়ুন কবিরের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সায়ন্তন বসু

মিল্টন পাল, মালদা: হুমায়ুন কবির বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করা নিয়ে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি এদিন বলেন, তারাই দল ছেড়েছে যারা বিজেপির নীতি-আদর্শকে মেনে নিতে পারেনি। তারা কখনও সক্রিয় ছিলেন না বিজেপিতে। দলে থাকতে হলে ঝান্ডা হাতে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হবে। বিজেপি ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে না।  তাই তৃণমূল থেকে এসে আবার তৃণমূলেই ফিরে যেতে হয়েছে হুমায়ুন কবির, বিপ্লব মিত্রদের মতো নেতাদের।

শুক্রবার মালদায় দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে এসে শাসকদলের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এমনই কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। এদিন সকালে মালদা শহরের পুরাটুলি বাঁধরোড এলাকার বিজেপির জেলা কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন সায়ন্তন বসু। সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন বিজেপির মালদা জেলা সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল প্রমুখ।

সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি’র রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যারা এসেছিলেন, সেই সব নেতাদের ঝান্ডা নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে। এটাই আমাদের দলের নিয়ম। ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করা যায় না। তাই যাদের পোষাইনি, তারা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এরমধ্যে যেমন বালুরঘাটের বিপ্লব মিত্র, মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির রয়েছেন।

আরও পড়ুন:পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ভয়শূন্য চিত্তে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিতেই হবে

এই প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসুকে প্রশ্ন করা হয়,  তাহলে মুকুল রায় নয় কেন ? উনিও তো বিজেপিতে যোগদানের পর রাস্তায় আন্দোলনে নামেননি। সায়ন্তনবাবু বলেন, মুকুল রায় যেভাবে লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের মানচিত্র বদলে দিয়েছেন, তাতে আর নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। উনি বিজেপি দলের হয়ে যেভাবে কাজ করে চলেছেন, সে নিয়ে আর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

করোনা সংক্রমনের মধ্যে এবং লকডাউন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বনদফতর হঠাৎ করে কয়েক হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়েও রীতিমতো কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, তৃণমূল ভোটের আগে টাকা তোলার এটা নতুন পথ তৈরি করেছে। চাকরি তো একটাও হবে না, শুধু শুধু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে তৃণমূলের দালালেরা টাকা তোলার ধান্দার একটা নতুন পথ তৈরি করেছে। বিগত দিনে টেট পরীক্ষা সহ অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার নিয়োগ এখনও কার্যকর হয়নি। কাজেই এটা যে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে তা পরিষ্কার।

রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি বিজেপিতে কি আসছেন, এটা রটনা না ঘটনা! এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, শুভেন্দুবাবুর যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে ২০২১ সালের পর তৃণমূল দলটাই থাকবে না। মানুষ তৃণমূলের ভাঁওতাবাজি বুঝে গেছে। তাই নতুন করে আর কিছু বলার নেই।

ভাটপাড়া ঘটনা প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসু বলেন,উনি তো বলেছেন বিজেপিকে ভোট দিলে কি রেজাল্ট হয় সেটা ভাটপাড়ার মানুষ বুঝছে। বিজেপিকে ভোট দিলে কি হয় তা পুলিশ ও তৃণমূলের সমাজবিরোধীরা জয়েন্ট ভেঞ্চার করে ব্যারাকপুর সাব ডিভিশনের মানুষকে বোঝাচ্ছেন। তার জন্যই এই অশান্তিগুলো ঘটছে। পুরোটাই পুলিশ আর তৃণমূলের সমাজবিরোধীরা ভেঞ্চার করে করছে।তাদের সাহায্য ছাড়া এই অশান্তি গুলি হতে পারে না।

হালিশহর প্রসঙ্গে বলেন, ওনারাই তো বলেন, সব বিজেপি ওখানে তৃণমূল হয়ে গেছে। তাহলে ওখানে বিজেপি কিভাবে হামলা করবে? তৃণমূল নিজেরাই হামলা করছে আর বিজেপির নামে দোষ দিচ্ছে। নৈহাটিতে তৃণমূলের পার্টি অফিস তৃণমূলের লোকজন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ওখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়েছে ব্যাপকভাবে। এখন তো সব জায়গায় তৃণমূল বনাম যুব তৃণমূলের দ্বন্দ্ব চলছে।তাই জন্য বলছি লকডাউন আছে বলে সরকার আছে লকডাউন উঠে গেলে এসরকার উঠে যাবে।

অর্জুন সিং এর আত্মীয়র বাড়িতে পুলিশের রেট প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশের এখন তিনটি কাজ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা, তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা করা, বিজেপি কার্যকতাদের নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা। নারী নির্যাতন, আমাদের বিধায়ক খুন সহ একাধিক ঘটনায় কোনও ব্যবস্থা নেই। আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা হয়নি। যত আমাদের ওপর হামলা,মামলা ও গ্রেফতার করবে ততই আমাদের আসন বাড়বে।

আরও পড়ুন: সঙ্কটে রবীন্দ্র আদর্শ

পাল্টা মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, কথায় আছে নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা,বিজেপির অবস্থা হয়েছে তাই। ১৮টি আসন পেয়ে কিছু নেতাদের বিভ্রান্ত করে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে যোগদান করিয়ে ছিলেন। তারা এখন বুঝতে পেরেছেন সব। বিজেপি দল করতে গেলে দম বন্ধ করে করতে হবে। আর তা বুঝতে পেয়ে বিপ্লব মিত্র হুমায়ুন কবিরের মত নেতারা তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।সায়ন্তন বসুরা  মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। বিপদের সময় মানুষের পাশে না থেকে উস্কিয়ে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলবে না। যেসব নেতারা বিজেপিতে গেছে তারা সবাই আমাদের দলে চলে আসবে।সুতরাং সায়ন্তনবসুরা দিবা স্বপ্ন দেখুক। তৃণমূল তূণমুলের কাজ করছে।

Related Articles

Back to top button
Close